মুর্শিদাবাদ, পিউ নন্দী: জলে ডুবে কেটেছে ৫ বছর। এক বিরল রোগে দিনের বেশিরভাগ সময় পুকুরের জলে ডুবে জীবন কাটছিল মুর্শিদাবাদের ১৭ বছরের এক কিশোরের। গায়ে তীব্র জ্বালাপোড়া। জল থেকে উঠলেই অসহ্য কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছিল ইকবাল শেখ নামে ওই কিশোরকে। গলা জলে ডুবে থাকা একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। আর সেই ভিডিওই বদলে দিল ইকবালের জীবন।
নাম না জানা এই অদ্ভুত রোগের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল রিলায়েন্স গ্রুপ। জানা গিয়েছে, অনন্ত আম্বানির হস্তক্ষেপে কিশোর ইকবালকে বেশ কিছুদিন আগে আকাশপথে মুম্বাই নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানেই স্যার এইচ এন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তার। তবে ইকবালের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। গত পাঁচ বছর আগে তার স্বভাবে শুরু হয়েছে বদল।
স্থানীয় সূত্রে খবর, আগে ইকবাল এলাকার একাধিক পুকুরে ঘুরে ঘুরে সময় কাটাতো। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে এলাকার একটি পুকুরেই সারাক্ষণ ভেসে থাকে ইকবাল। স্থানীয়রা চিড়ে, বিস্কুট খেতে দেয় তাকে।জলের মধ্যে থেকেই খাবার খেয়ে জলে ভেসে থাকে সে। কেউ তাকে জল থেকে উঠে আসতে বললে সেই কথা শুনত না ইকবাল। এইভাবে টানা জলে পড়ে থাকায় তার হাতের পায়ের চামড়া সাদা হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে তাকে বাড়িতে আটকে রাখাও সম্ভব হয় না। ফলে শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি সর্দি-কাশিতেও ভুগছে সে।
এক বছর হয়েছে ইকবালের বাবা হাসিবুর শেখ এর মৃত্যু হয়েছে। তার মা কামিরন বিবি বিড়ি বেঁধে কোনোমতে সংসার চালান। চিকিৎসার জন্য ছেলেকে মানসিক হাসপাতালেও নিয়ে যান তিনি। কিন্তু সেখানে গিয়েও কোন লাভ হয়নি। উল্টে ছেলে মাকে মারধর করে টাকা-পয়সা কেড়ে নিয়ে পালিয়ে যায় বলে দাবি ইকবালের মায়ের।
সাংসারিক টানাপোড়েনে আর সম্ভব হয়ে ওঠে না ইকবালের চিকিৎসা করানোর। ছেলে সুস্থ হয়ে উঠবে এই আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন তার পরিবার। কিন্তু সম্পতি ইকবালের জলে ভেসে থাকার ভিডিও ভাইরাল হলে ওই কিশোরের চিকিৎসা দায়িত্ব নেন অনন্ত আম্বানি। বর্তমানে ইকবাল চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে। সুদীর্ঘ্য ৫ বছরের অসহ্য যন্ত্রণা কাটিয়ে ইকবালের সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশায় বুক বেঁধেছে পরিবার।