নিউজ ডেস্ক: জেরুজালেমের শূন্য সমাধি নাকি জাপানের পাহাড়ি টিলা, যিশুর শেষ ঠিকানা কোথায়? জানেন এই দুই সহস্রাব্দের রহস্য জেরুজালেমের পাথুরে গুহা থেকে রোমান সাম্রাজ্যের রক্তচক্ষু এড়িয়ে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া,ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত রহস্যের কেন্দ্রবিন্দুতে আজও দাঁড়িয়ে আছেন একজনই, যিশু খ্রিস্ট।
দুই সহস্রাব্দ ধরে কোটি কোটি মানুষের অটুট বিশ্বাস, জেরুজালেমের ‘চার্চ অফ দ্য হোলি সেপালকার’-এর গর্ভেই রয়েছে তাঁর সেই পবিত্র সমাধি। কিন্তু সম্প্রতি গির্জার ভূগর্ভস্থ খননকাজ এবং সুদূর প্রাচ্যের কিছু প্রাচীন নথি যেন ইতিহাসের এক অবিশ্বাস্য দ্বন্দ্বে ফেলে দিয়েছে গবেষক থেকে সাধারণ মানুষ সকলকেই।
চতুর্থ শতকে রোমান সম্রাট কনস্ট্যানটাইনের তৈরি গির্জাটির তলদেশে খননকাজ চালিয়ে ইতালীয় প্রত্নতাত্ত্বিক ফ্রান্সেস্কা রোমানা স্টাসোল্লার দল খুঁজে পেয়েছে এক চাঞ্চল্যকর সত্য। মাটির গভীরে পাওয়া গিয়েছে প্রাচীন দ্রাক্ষাক্ষেত আর জলপাই বাগানের অবশিষ্টাংশসহ একটি গ্রামীণ সমাধিক্ষেত্র। বাইবেলের ‘গসপেল অফ জন’-এ ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার স্থানের কাছে বাগানের ভেতর পাথরে খোদাই করা যে সমাধির কথা বলা হয়েছিল, মাটির নিচের বাস্তবতা যেন হুবহু সেই প্রাচীন লিপিরই প্রতিচ্ছবি। তবে পাথরের সেই আধারে কোনও মানবদেহের অবশিষ্টাংশ নেই।
আরিমাথিয়ার জোসেফের নতুন গুহায় শায়িত দেহটি যদি সত্যিই শূন্য হয়ে থাকে, তবে যিশু আসলে কোথায় গিয়েছিলেন? এই প্রশ্নটিই জন্ম দিয়েছে ইতিহাসের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিতর্কের। খ্রিস্ট ধর্মের ইতিহাসকারদের একাংশের দাবি, ক্রুশবিদ্ধ হয়ে যিশুর শারীরিক মৃত্যু ঘটেনি।
গবেষক মাইকেল বেইগ্যান্ট, রিচার্ড লি এবং হেনরি লিঙ্কন তাঁদের গবেষণায় দাবি করেছেন, গুরুতর আহত অবস্থায় যিশুকে গুহায় লুকিয়ে সুস্থ করে তোলা হয় এবং সেই বেঁচে ফেরাই ‘পুনরুত্থান’ নামে পরিচিতি পায়। পরবর্তীকালে তিনি প্রাচ্যের দিকে পাড়ি জমান। ১৮৯৪ সালে রুশ পর্যটক নিকোলাস নোটোভিচ দাবি করেছিলেন, লাদাখের হেমিস গুম্ফায় বৌদ্ধ দর্শনে সময় কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত কাশ্মীরে পরিণত বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।
তবে সব জল্পনাকে ছাপিয়ে গিয়েছে জাপানের আওমোরি প্রিফেকচারের প্রত্যন্ত পাহাড়ি গ্রাম ‘শিঙ্গো’-র এক রহস্যময় লোকগাথা। ১৯৩৬ সালে প্রকাশ্যে আসা প্রাচীন ‘তাকেনোউচি ডকুমেন্টস’ অনুযায়ী, রোমানদের হাতে ক্রুশবিদ্ধ যিশু হননি, হয়েছিলেন তাঁর ছোট ভাই ইসুকিরি। ভাইয়ের আত্মত্যাগের সুযোগে মা মেরির একগুচ্ছ চুল আর ভাইয়ের একটি কাটা কান সঙ্গে নিয়ে যিশু জুডিয়া থেকে পালিয়ে পৌঁছান জাপানে। সেখানে এক স্থানীয় নারীকে বিয়ে করে স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন কাটান এবং ১০৬ বছর বয়সে তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়।
আজও শিঙ্গো গ্রামের এক টিলার ওপর কাঠের বিশাল ক্রস চিহ্নিত সমাধিকে ‘যিশুর কবর’ বলে দাবি করা হয় এবং স্থানীয় কিছু পরিবারের শিশুদের কপালে ক্রস আঁকার অদ্ভুত রীতিও চোখে পড়ে।
জেরুজালেমের বৈজ্ঞানিক প্রত্নতত্ত্ব, লাদাখের গুম্ফা, নাকি জাপানের পাহাড়ের চূড়ায় থাকা নিঃসঙ্গ সমাধি, যিশুর শেষ যাত্রার সত্য আসলে কী? রহস্যের কুয়াশা সরিয়ে আজ পর্যন্ত তার সঠিক উত্তর মেলেনি।




