ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঘিরে ফের রাজনৈতিক উত্তেজনা। হরিনাম সংকীর্তন আসরে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরকে দেখে শুরু হল বিক্ষোভ। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ইটবৃষ্টি ও মারামারি। ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রবিবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় আসানসোলের ধেমোমেন এলাকায়।
রবিবার কুলটি বিধানসভা এলাকার আসানসোল দক্ষিণ থানার অন্তর্গত ধেমোমেনে অষ্টপ্রহর হরিনাম সংকীর্তনের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ ছিলেন আসানসোল পুরনিগমের ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় নোনিয়া। স্থানীয় সূত্রে খবর, সঞ্জয় কয়েকজন তৃণমূল কর্মী সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে পৌঁছতেয় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ, সঞ্জয় ও তাঁর কর্মীদের লক্ষ্য করে স্থানীয় কয়েকজন ইট ছুঁড়তে শুরু করেন। পাল্টা সঞ্জয়ের অনুগামীরাও ইট ছুড়ে বলে অভিযোগ। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শুরু হয় দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি। ইটবৃষ্টিতে বেশ কয়েকজন জখম হন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের শরীর থেকে রক্ত ঝরতে দেখা যায়।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রাক্তন কাউন্সিলরের দাবি, তিনি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হিসেবে গিয়েছিলেন। কোনও প্ররোচনা ছাড়াই তাঁকে ও তাঁর সঙ্গীদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। এমনকি পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান বানচাল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে। যদিও অন্য পক্ষের বক্তব্য, তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকেই এলাকাবাসির একাংশ প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত তৃণমূলের লোকজনদের অনুষ্ঠানে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। সেই থেকেই অশান্তির সূত্রপাত।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এই ঘটনার পিছনে আগের রাজনৈতিক সংঘর্ষেরও রেশ থাকতে পারে। মাঝখানেক আগে একটি বিজেপির সংবর্ধনা সভায় তৃণমূল নেতা রোহিত নোনিয়া, তাঁর ছেলে এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জয় নোনিয়ার সঙ্গে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়েছিল। সেই ঘটনায় কয়েকজন বিজেপি কর্মী আহত হন। পুলিশে অভিযোগ দায়ের করাও হয়েছিল। সম্প্রতি, ওই ঘটনায় অভিযুক্তরা আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।
অন্যদিকে সংকীর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজকদের দাবি, প্রায় ৩০ বছর ধরে রোহিত নোনিয়া এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আসতেন। পরবর্তীতে, তাঁর ছেলে সঞ্জয়কেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। এবারও সেই রীতিতেই তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কারা হামলা ও অশান্তিতে জড়িত ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। নতুন করে যাতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত না হয় সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।