ছত্রিশগড়, নিউজ ডেস্ক: ঘন অন্ধকার রেল সুড়ঙ্গ, চারপাশে খাড়া পাহাড় আর নিবিড় বনাঞ্চল। দুই লাইনের ঠিক মাঝখান দিয়ে আপন খেয়ালে হেঁটে চলেছে একটি চিতাবাঘ। আর ঠিক তার পিছনে ধীরগতিতে এগোচ্ছে ট্রেন।
ছত্রিশগড়ের বিলাসপুর-কাটনি রেলপথের খোংসারা-ভানোয়ারট্যাঙ্ক সেকশনে এমনই এক রোমাঞ্চকর অথচ রুদ্ধশ্বাস ঘটনার সাক্ষী থাকলেন রেলকর্মীরা। ট্রেনের লোকো পাইলটের উপস্থিত বুদ্ধি ও মানবিকতায় অল্পের জন্য বড়সড় বিপদ থেকে রক্ষা পেল প্রাণীটি।
জানা গিয়েছে, ট্রেনটি যখন ওই পাহাড়ি এলাকার ভানোয়ারট্যাঙ্ক সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিল, তখন হেডলাইটের আলোয় চালকের চোখে পড়ে লাইনের ওপর চিতার উপস্থিতি। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনের গতি এক ধাক্কায় কমিয়ে দেন সজাগ লোকো পাইলট। পিছনে ট্রেন থাকলেও চিতাবাঘটির মধ্যে কোনো তাড়াহুড়ো নেই।
সে একেবারে রাজার চালে ধীরপায়ে সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ট্রেনটিও তার পেছনে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলতে থাকে। কিছুটা পথ যাওয়ার পর সুড়ঙ্গের মুখ পেরিয়ে চিতাটি লাইন ছেড়ে দ্রুত ঢুকে পড়ে পাশের গভীর জঙ্গলে। কোনও তাড়াহুড়ো না করে ধীর গতিতে চিতা বাঘের চলন দেখে অনেকেই বলছেন রাজকীয় মেজাজে চিতা বাঘ।
ট্রেনের কেবিন থেকেই এই বিরল মুহূর্তটি নিজেদের মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করেন চালক ও ট্রেনের গার্ড। সমাজমাধ্যমে সেই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
সূত্র: https://x.com/anshuman_sunona/status/2092903489659863105
নেটিজেনদের একাংশ লোকো পাইলটের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বন্যপ্রাণীর এমন নিশ্চিন্ত ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য দেখে অনেকে যেমন মুগ্ধ তেমনই জঙ্গল করিডরে ট্রেনের গতি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন অনেকে।
ঘন জঙ্গল ও পাহাড়ি এই রুটে হাতি, চিতাবাঘের মতো বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ নতুন নয়। তবে এই ঘটনার পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় বন দফতর।
চিতাবাঘটি রেললাইনের আশপাশেই রয়ে গিয়েছে কি না, তা জানতে এলাকায় বিশেষ নজরদারি ও নিয়মিত টহল শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে রেলের ট্র্যাকম্যান ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের মধ্যে। কারণ ঘন জঙ্গলঘেরা এই দুর্গম সেকশনে তাঁদের প্রতিনিয়ত পায়ে হেঁটে লাইন পরীক্ষা করতে হয়, যা যেকোনো মুহূর্তে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।




