এবার এনআরএস হাসপাতালে নার্সের রহস্যমৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন তাঁর স্বামী।
তিনি জানান,বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিট নাগাদ শেষ বার স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল তাঁর। জানা গিয়েছে, মাত্র ১০ মাস আগে বিয়ে হয়েছিল তাঁদের। এরই মধ্যে এমন ঘটনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে পরিবার। হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে সামাজিক বিয়ে করেন ওই নার্স। ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইট থেকে একে অপরকে পছন্দ করেন তাঁরা। স্বামীর বাড়ি দিল্লি হলেও বিয়ের পর কলকাতায় থাকতে শুরু করেন। সূত্রে খবর,বিয়ের পর থেকে দমদমে ভাড়া থাকতে শুরু করে ওই দম্পতি। জানা গিয়েছে, মৃত্যুর আগেও স্বামীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন ওই নার্স। তিনি জানিয়েছিলেন, বৃষ্টিতে কলকাতায়
জল জমে গেছে। তবে বেশক্ষণ কথা হয়নি তাঁদের। স্বামী ছাড়া আর কারও সঙ্গে কথা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, মৃতার স্বামীর বক্তব্যে বেশ কিছু অসংগতি মিলেছে। প্রশ্ন উঠছে ঘটনাটি আদৌ আত্মহত্যা নাকি অন্যকিছু।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১২ অগাস্ট রাত ৮টা থেকে নাইট শিফট ডিউটি ছিলেন ওই নার্স। রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ তিনি শৌচালয়ে যান। প্রায় সাত মিনিট পরেও তিনি ফিরে না আসায় সহকর্মীরা তাঁকে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভিতর থেকে কোনও সাড়া মেলেনি। শৌচালয়ের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। এরপর সাড়াশব্দ না পেয়ে শৌচালয়ের দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন সহকর্মীরা। সেখানেই নার্সকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শৌচালয়ে যাওযার সময়ে ওই নার্স ফেন্টানিলের ৩টি ভায়াল সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। এই ওষুধ সাধারণত রোগীদেরক ঘুম পাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। ওই ওষুধ নার্সের কনুইয়ের জয়েন্টে ইনজেক্ট করা হয়েছিল। কেন এই ভায়াল তাঁর প্রয়োজন পড়ল, ইনজেক্টই বা কে করল শরীরে? যা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।