নেপাল, নিউজ ডেস্ক: আচমকাই বিপর্যয় নেপালে! প্রবল জলস্রোতের কারণে ভেসে গিয়েছে সেখানকার বাড়িঘর এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি। কিন্তু এই বন্যার পিছনের কারণ কী? বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন এর পিছনে আছে তুষারধস। ইসরোর উপগ্রহ মারফত জানা গেছে,এই ঘটনাকে ইংরেজিতে বলা হয় Ice Avalanche। বুধবার সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটের ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্পই তুষারধসের নেপথ্যে। ভূমিকম্পের তথ্য আসায় ভাবা হয়েছিল, মাটি কাঁপতেই ভেঙে পড়ে হিমবাহের টুকরো! কিন্তু পরে আমেরিকার একটি সার্ভে টিম জানায়, এটি সাধারণ ভূমিকম্প নয়। এটির নেপথ্য কারণ তুষারধস।
এই ঘটনার পিছনে তিনটি কারণ। প্রথম কারণ, হিমবাহ ভাঙার জন্য বিশ্ব উষ্ণায়নই দায়ী। দাবি করেছেন পরিবেশবিজ্ঞানীরা দ্বিতীয় কারন, পাহাড়ি নদীর কারণেই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ছড়াছড়ি। তাপালের পাহাড়ি পথে ২০টি সেতুর সঙ্গে ১৩টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ভেসে গিয়েছে। এর বেশ কয়েকটিই কর্মক্ষম ছিল। অর্থাৎ, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধে জল জমানো ছিল। বাঁধ ভাঙায় সেই জমানো জল ‘জলবোমা’র তেজ আরও বাড়িয়েছে। তৃতীয়ত, নিয়ম চুলোয় দিয়ে নদীর ধারে, এমনকী নদীখাতে বাড়ি, বহুতল! নদীর প্লাবনভূমি ফাঁকা থাকলে,এত ক্ষয়ক্ষতি, ধ্বংসাবশেষের মুখে পড়তে হত না নেপালকে।
এই ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল শুগার বলেছেন 'ছোটখাট নয়, বিরাট মাপের হিমবাহ-টুকরো ভেঙে পড়ে বুধবার। হিমবাহ-টুকরোর মাপ চোখ কপালে তুলে দেওয়ার মতো। শুগারের দেওয়া হিসেব, ২০০০ ফুট চওড়া হিমবাহ-টুকরো সটান ৪০০০ ফুট নীচে আছড়ে পড়ে। গোটা ঘটনাটা ঘটেছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৭০০০ ফুট উঁচুতে। অর্থাৎ, মূল হিমবাহ রয়েছে ১৭০০০ ফুটে। তার থেকে বিশালাকার টুকরো ভেঙে পড়েছে ১৩ হাজার ফুটে। ওই বিশাল চেহারার টুকরো তিব্বতের লেন্ডে নদীতে ভেঙে পড়তেই জল, বরফ, কাদা, পাথর, বোল্ডার মিশে মুহূর্তের মধ্যে জলবোমা-র আকার নেয়। যেহেতু পাহাড়ি নদীর ঢাল বেশি, চোখের পলকে, দু’কুল ভাসিয়ে, বলা ভালো দু’কুল ধ্বংস করতে করতে নামে জলবোমা। পাহাড় এতটাই খাড়াই, নদীর জলস্তরের উচ্চতা বাড়তে বিশেষ সময় লাগেনি।' ড্যানিয়েল শুগার আরও যোগ করেন, ‘জলবোমার যে ছবি দেখেছি, তাতে এর পিছনে আরও কোনও কালপ্রিট থাকলেও অবাক হব না!’