রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে তৈরি হচ্ছে 'নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র'। আর সেই সেবা কেন্দ্রগুলিতে এবার নেতাজীর নির্দিষ্ট ছবি টাঙ্গানো বাধ্যতামূলক করা হল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ মেনে বিধায়কদের হাতে সেই ছবি তুলে দেওয়া শুরু করেছে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। ফলে, শাসক-বিরোধী সব বিধায়কের বিধানসভা এলাকায় তৈরি সেবা কেন্দ্রে একই ধরনের নেতাজীর ছবি দেখা যাবে।
বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের প্রতিটি বিধায়ককে নিজের বিধানসভা এলাকায় একটি করে 'নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র' খুলতে হবে। রাজনৈতিক দলের পরিচয় নয়, শাসক ও বিরোধী সব বিধায়কের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ প্রযোজ্য। সাধারণ মানুষ যাতে সরাসরি নিজেদের সমস্যা ও অভিযোগ জনপ্রতিনিধির কাছে জানাতে পারেন, সেই লক্ষ্যে এই সেবা কেন্দ্রগুলি তৈরি করার পরিকল্পনা। সেবা কেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। একইসঙ্গে প্রতিটি কেন্দ্রে নেতাজীর একটি নির্দিষ্ট ছবি রাখার কথা জানিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে এবার ছবিগুলি বিধায়কদের হাতে তুলে দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে।
তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের দেওয়া ছবিতে সাদা ধুতি ও সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত নেতাজিকে দেখা যাচ্ছে। ছবির সাজে ফুটে উঠেছে বাঙালিয়ানা ছাপ। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হয়েছেন রাসবিহারীর বিধায়ক তথা রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। নিজের বিধানসভা এলাকায় মনোহর পুকুরে তৈরি করেছেন 'নেতাজি সুভাষ সেবা কেন্দ্র'। সেখানে ইতিমধ্যেই সরকারিভাবে দেওয়া নেতাজির ছবি টাঙানো হয়েছে। শনিবার স্বপন দাশগুপ্তকে নিয়ে ওই সেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সেবা কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগের পাশাপাশি নেতাজিকে ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কের ঘটনাও সামনে আসছে। বিজেপি রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের নেতাজি সংক্রান্ত মন্তব্যকে ঘিরে সম্প্রতি রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই আবহে নেতাজিকে নিয়ে বিধানসভা থেকে কড়া বার্তাদের মুখ্যমন্ত্রী। নেতাজি সম্পর্কে কোনও অবমাননাকর মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না বলে জানান তিনি। পরে নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চান অনন্ত মহারাজ।
এই বিতর্কের আবহ কাটতে না কাটতেই প্রতিটি 'নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্রে'- নেতাজীর নির্দিষ্ট ছবি টাঙ্গানোর সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেছে রাজনৈতিক মহল। এখন নজর, রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় এই সেবা কেন্দ্র কত দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয় এবং সাধারণ মানুষ সেখানে কতটা পরিষেবা পান।