নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভায় আসন্ন রদবদল নিয়ে জল্পনার আবহেই এবার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গডকড়ী। নাগপুরের এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট জানালেন, আগের মতো কাজ করার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা তাঁর আর নেই। তাই এবার নতুন প্রজন্মের হাতে গুরুদায়িত্ব তুলে দেওয়ার সময় এসেছে। বয়োজ্যেষ্ঠদের দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকে পথ দেখানো, যাতে তারা স্বাধীনভাবে নেতৃত্ব এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে থাকা গডকড়ীর এই বয়ান ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই মন্তব্য এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন বিজেপির শীর্ষ সংগঠনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে ঘোষিত নতুন কমিটিতে ৬৫ জন সদস্যের মধ্যে ৫১ জনই একেবারে নতুন মুখ। স্মৃতি ইরানি, বসুন্ধরা রাজে ও রাম মাধবের মতো প্রবীণ নেতৃত্বকে সহ-সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালের পর সংগঠনে এই স্তরের বড় পরিবর্তনের পরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনা নিয়ে রাজধানীর অন্দরে গুঞ্জন তুঙ্গে।
তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কও বড় ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল চালুর নীতি রূপায়ণকে ঘিরে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছিল গডকড়ীকে, যার জল আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এই ইস্যুতে দলের সোশ্যাল মিডিয়া ও আইটি সেলের একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে অভিযোগ তুলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি পর্যন্ত লেখেন বলে সূত্রের দাবি। এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং সাংগঠনিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে গডকড়ীর এই ‘ব্যাটেন হস্তান্তরের’ বার্তা কি কেবলই উপলব্ধি, নাকি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সম্মানজনক প্রস্থান তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে জোর তরজা শুরু হয়েছে।