হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার কারণে প্রাণ হারালেন এক রোগী। ঘটনাকে ঘিরে সরগরম পুরুলিয়ার নিতুরিয়া এলাকা। আর এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে মৃতদেহ রাস্তায় রেখে বিক্ষোভের শামিল হল মৃতের পরিবার ও আত্মীয়রা।পুরুলিয়া-বরাকর রাজ্য সড়ক অবরোধ করে চলে বিক্ষোভ। এর জেরে রাস্তার দু-পাশে তৈরি হয় ব্যাপক যানজট।
ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়া জেলার নিতুড়িয়া থানার অন্তর্গত একটি বেসরকারি হাসপাতালে। মৃতার নাম রিতা বাউরী। পরিবারের অভিযোগ, গর্ভনিরোধক অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন রিতা। সেই সময় ওই রোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার আবেদন জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু কোনোভাবেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি ওই রোগীকে বলে অভিযোগ। এমনকি পরিবারকেও বিষয়টি জানানো হয়নি। হাসপাতালের গাফিলতির জরি শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে রিতা বাউড়ি বলে অভিযোগ করে পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরো অভিযোগ করা হয়। রোগীর মৃত্যু হয়ে যাওয়ার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয় ওই হাসপাতালের পক্ষ থেকে। এই অভিযোগেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। চিকিৎসক রমেন্দ্র গড়াই এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মৃতদেহ নিয়ে রাজ্য সড়কে বসে অবরোধ শুরু করেন তারা।
এই বিক্ষোভের মাঝে আরো একটি অভিযোগ সামনে আসে। নিতুড়িয়া এলাকার বাসিন্দা কল্পনা মন্ডল দাবি করেন, একই চিকিৎসকের কাছে তিনি টিউমারের অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন তিনি তাতে দুটো কিডনি নষ্ট হয়ে গিয়েছে তার। তিনিও অভিযোগ করেন, চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই এমন পরিস্থিতি হয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তার চিকিৎসার লাইসেন্স বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন কল্পনা মন্ডল।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এইদিন সন্ধ্যে পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যায় পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে হবে। চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি বা ভুল চিকিৎসার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। বিক্ষোভের জারে যান চলাচল অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ভোগান্তির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে।