কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: উত্তরপাড়ায় সাট্টা বুকির বাড়িতে পুলিশের অভিযানে চাঞ্চল্য। পুলিশই তল্লাশি আটকাতে একের পর এক কৌশল নেওয়ার অভিযোগ উঠল বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, পুলিশ বাড়িতে ঢুকতে গেলে দরজা খুলতে অস্বীকার করা হয়। এমনকি, পোষ্য ডোবারম্যান কে পুলিশের দিকে লেলিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠে। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে শেষ পর্যন্ত বাড়িতে ঢোকে পুলিশ। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা।
ঘটনাটি হুগলির উত্তরপাড়ার তিন নম্বর কাঁসারিপুকুর রোডের। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকার বাসিন্দা সঞ্জয় মজুমদার ওরফে বাপের বাড়িতে বুধবার রাতে অভিযান চালায় চন্দননগর পুলিশের ডিডি টিম। অভিযানে আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা ছিল বলেও জানা গিয়েছে।
অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সাট্টার কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন বাপি। স্থানীয়ভাবে তিনি 'প্যাড বাপি' নামেও পরিচিত। পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করলে দরজা খুলে দেওয়া হয়নি। এরপর, পোষ্য ডোবারম্যানকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। শুধু তাই নয় পুলিশকে দেখে বাড়ির ছাদ থেকে নগদ টাকা ও সোনা বাইরে ছুড়ে ফেলার অভিযোগ রয়েছে।
তবে ,কোনও কিছুতেই থামানো যায়নি পুলিশের অভিযান। দীর্ঘ তল্লাশির পর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় প্রায় সাড়ে ১২ লক্ষ নগদ এবং প্রায় দেড় কেজি সোনা। যদিও অভিযানের সময় বাড়িতে মূল অভিযুক্ত বাপিকে পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাঁর দুই নিকট আত্মীয়কে আটক করা হয়। চন্দননগর পুলিশের দাবি ,বেআইনি সাট্টা চালানোর অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধার করা হয়েছে এবং দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের আদালতে পেশ করা হবে।
পুলিশের আরও দাবি, বাপির সঙ্গে কুখ্যাত দুষ্কৃতী রমেশ মাহাতোর ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও রয়েছে। একইসঙ্গে এলাকায় বেআইনি মদ, জুয়া ও বেআইনি সাট্টার বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এরইমধ্যে, কোন্নগর থেকেও বেআইনি জমি কারবারের অভিযোগে হুব্বা শ্যামলের ভাই ও আরেক সঙ্গীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
উত্তরপাড়ার এই অভিযানে উদ্ধার হওয়া বিপুল নগদ টাকা ও সোনা ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এত সম্পত্তি কোথা থেকে এল, সাট্টার কারবারের সঙ্গে এর কোনও যোগ রয়েছে কি না, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে, মূল অভিযুক্ত বাপির সন্ধান এখনও মেলেনি। ফলে, পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর।