মুর্শিদাবাদ, নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে তৃণমূল ছেড়ে একাধিক নেতার কংগ্রেসে যোগদান ঘিরে বড়সড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার, ধুলিয়ানে কংগ্রেসের যোগদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী এবং ইশা খান চৌধুরী। সেখানেই তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মী কংগ্রেসে যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ধুলিয়ান পুরসভার পুরপিতা ইনজামুল ইসলামও। আর এই যোগদান কর্মসূচি নিয়ে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
সূত্রে খবর, সামশেরগঞ্জের এই যোগদান কর্মসূচি আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে আইসিসি। পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত কংগ্রেস নেতা প্রকাশ যোশীর মাধ্যমে প্রদেশ নেতৃত্বকে এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে কেন এই ব্যক্তিদের কংগ্রেসে নেওয়া হয়েছিল, তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় কি এবং যোগদানের আগে কি ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল, তার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
কংগ্রেসের অন্দরে বিতর্কের অন্যতম কারণ ইনজামুল ইসলামের নাম। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে ধুলিয়ানে অশান্তিতে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি। সেই অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই তাঁকে কংগেসে নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে চিঠিতে জানানো হয়েছে, গত ২৩ আগস্ট সামশেরগঞ্জে কয়েকজন কংগ্রেসের যোগদান করানো হলেও নির্ধারিত সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তাই, ওই যোগদান আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে।
আইসিসির নির্দেশ অনুযায়ী, অন্য রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী বা সমাজকর্মীদের কংগ্রেসে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে তাঁদের নামের তালিকা প্রদেশ কংগ্রেসের কমিটির কাছে পাঠাতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখে, তালিকাটি আইসিসির অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হবে। কেন্দ্রীয় অনুমোদনের পরে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করানোর কথা।
ফলে ,সামশেরগঞ্জের এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। দলকে শক্তিশালী করতে তৃণমূল থেকে নেতাকর্মীদের নেওয়ার সিদ্ধান্ত কি এবার আরও কঠোর যাচাইয়ের মুখে পড়বে? অধীর চৌধুরীর এলাকায় এই যোগদান কর্মসূচিকে ঘিরে কেন্দ্রিয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ, কংগ্রেসের বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন নজর, প্রদেশ কংগ্রেস এই বিষয়ে কি ব্যাখ্যা দেয়।