হাওড়া, নিউজ ডেস্ক: হাওড়ার আন্দুলের একটি বহুতল আবাসনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা,মৃত এক বৃদ্ধা। আবাসনটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ভেতরে আটকে পড়েন বেশ কয়েকজন আবাসিক। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে গিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। দমকল কর্মীরা সাহসিকতার সঙ্গে ভবনের ভেতরে ঢুকে আটকে পড়া অন্য বাসিন্দাদের সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও, নিজের ফ্ল্যাটের ভেতরে আটকা পড়ে আগুনে ঝলসে প্রাণ হারান ওই বৃদ্ধা।
ফের বহুতলে অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ স্মৃতি ফিরল রাজ্যে। এবার ঘটনাস্থল হাওড়ার আন্দুল। অঙ্কুরহাটি এলাকার একটি বহুতল আবাসনে আচমকাই বিধ্বংসী আগুন লেগে মৃত্যু হল গোপা মুখোপাধ্যায় নামে এক বৃদ্ধার। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দমকলকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বহুতল থেকে ১২ জন আবাসিককে নিরাপদে উদ্ধার করলেও শেষরক্ষা হয়নি ওই বৃদ্ধার।
পুলিশ ও দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ভরদুপুরে অঙ্কুরহাটির ওই বহুতলের তিনতলার একটি ফ্ল্যাটে প্রথম ধোঁয়া ও আগুনের ফুলকি দেখতে পান স্থানীয়রা। সামনে খোলা মাঠ থাকায় দমকা বাতাসের জেরে আগুন দ্রুত পাশের ফ্ল্যাটগুলিতেও ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে লেলিহান শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা আবাসন।
প্রাণভয়ে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায় আবাসিকদের মধ্যে। যে যার মতো করে নিচে নেমে আসার চেষ্টা করেন। তবে ওপরের ফ্ল্যাটে আটকে পড়েন বৃদ্ধা গোপা মুখোপাধ্যায়। দমকলকর্মীরা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে বিছানা থেকে তাঁর দগ্ধ দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষাক্ত ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া কয়েকজনকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে এই অগ্নিকাণ্ডকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, বহুতলটিতে ১০-১২টি পরিবারের বসবাস হলেও ন্যূনতম কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। বহুতল থেকে নামার জন্য ছিল মাত্র একটি অপ্রশস্ত সিঁড়ি, রাখা হয়নি কোনও এমার্জেন্সি এক্সিটও। পর্যাপ্ত জলের পরিকাঠামো ছাড়া কীভাবে স্থানীয় পঞ্চায়েত বা পুরসভা এমন বহুতল তৈরির অনুমতি দিল, তা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকেই এই দুর্ঘটনা বলে অনুমান করা হলেও, আগুন লাগার সঠিক কারণ জানতে ফরেনসিক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নেমেছে পুলিশ ও দমকল।