নিউজ ডেস্ক : গেট নেই রেললাইনে। আর সেই লাইন পার হতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! শুক্রবার নদীয়ার শান্তিপুর থানার বেলেডাঙ্গা মোড় সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনের উপর একটি বেসরকারি গাড়িতে ধাক্কা মারে রেলের ইঞ্জিন। সংঘর্ষের আঘাতে দুমড়ে-মুচড়ে যায় গাড়িটি। ঘটনায় গাড়িতে থাকা তিনজন আহত হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে আহতদের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনজন একটি বেসরকারি গাড়ি করে রেললাইন পার হচ্ছিলেন। ওই জায়গায় কোনও রেলগেট বা লেভেল ক্রসিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। লাইন পার হওয়ার সময় আচমকায় একটি রেলের ইঞ্জিন গাড়িটিতে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার জেরে গাড়িটি রেল লাইনের থেকে বেশ কিছুটা দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় ইঞ্জিনটি।
দুর্ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় শান্তিপুর থানার পুলিশ। আহত তিনজনকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। রেল এবং পুলিশের আধিকারিকেরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। ঠিক কিভাবে গাড়িটি রেললাইনে উঠে এল এবং ইঞ্জিন আসার বিষয়টি চালক আগে থেকে বুঝতে পেরেছিলেন কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় ইঞ্জিনটির গতিবেগ কত ছিল, চালকের দিক থেকে কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই রেলগেট বসানোর দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু, এখনও কোনও স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি হয়নি। ফলে, ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় মানুষকে রেললাইন পার হতে হয়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, গেটবিহীন ওই রেললাইন পারাপার হতে এর আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের প্রশ্ন, কেন আরও বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হচ্ছে না?
রেললাইনে পারাপারের নিরাপত্তা নিয়ে এই দুর্ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে জুলাই মাসে বহরমপুর থানায় কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মধ্যবর্তী একটি লেভেল ক্রসিংএ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছিল। ট্রেন চলাচলের সময় রেলগেট খোলা থাকায় স্কুলপড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া একটি ভ্যানের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে একাধিক পড়ুয়ার মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। ফলে, শান্তিপুরে এই ঘটনাটিকে ঘিরে ফের সামনে এল রেললাইন পারাপারের নিরাপত্তার ব্যাপারটি। আপাতত আহত তিনজনের চিকিৎসা চলছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চালাচ্ছে প্রশাসন।