কল্যাণী,অঙ্কন দাস: মোটর ভ্যান নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং। ভ্যান চালকদের উদ্দেশে তিনি জানান 'আগেই টোটো গাড়িকে রাজ্য সড়ক এবং জাতীয় সড়কের চলাচল বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার মোটর ভ্যান চালকদের সাবধান করে দেওয়া হচ্ছে, এই অবৈধ গাড়ি চালানো যাবে না। এবার মোটর ভ্যানও বন্ধ করে দেওয়া হবে।' এমনটাই জানালেন পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং। প্রসঙ্গত, এর আগেই পরিবহন দফতরের তরফে মোটর ভ্যানচালকদের ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, নদিয়ার কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে 'রোজগার মেলা' অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন পরিবহন মন্ত্রী। মূলত, চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে নব প্রজন্মকে উজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে, এই রোজগার মেলার আয়োজন করা হয়। এই দিন,রোজগার মেলা থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অর্জুন সিং বলেন,'মানুষ ভাবত আমরা চাকরি পাব না। অনেক সমস্যায় রয়েছেন। এই সরকারে কিছুই নেই এটা মানুষের ভুল ভাবনা। এই ভাবনা থেকে নব প্রজন্মকে দিশা দেখানোই মূল লক্ষ্য।'
এরপরেই মোটর ভ্যান নিয়ে কড়া বার্তা দেন অর্জুন সিং। ভ্যান চালকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মোটর ভ্যানে দূষণ হচ্ছে। এটা আমরা পুরোপুরি বন্ধ করে দেব। আমি স্পষ্ট বলছি, এটা আমরা চালাতে দেব না। আমি এক মাস,দেড় মাস সময় দিয়েছি। আপনারা পিক-আপ ভ্যান কিনুন। রেজিস্ট্রেশন করুন। আমরা আগেই বলেছি প্রত্যেকটা বিধানসভায় ১০০টা অটো, ম্যাজিক গাড়িগুলি, যেখানে আট-নয়জন বসতে পারে, আমরা পারমিট দেব। সরকারি নিয়ম মেনে করলে কোনও অসুবিধা হবে না। কাউকে পাঁচ পয়সা দিতে হবে না। কোনও ইউনিয়ন, কোনও গুণ্ডাকে এক পয়সা দেবেন না। সরকারি নিয়ম মেনে আইনের শাসনের মধ্যে থাকুন।' এই বক্তব্যের পর তিনি আরও যোগ করেন ‘পুজোর আগে প্রায় ৬০০ গাড়ি নামানো হচ্ছে। আগামী বছর মার্চ মাসের মধ্যে এক হাজার গাড়ি চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,চলতি মাসে, গত ৮ই অগাস্ট, ব্যারাকপুরে এমনই ঘোষণা করছিলেন পরিবহণমন্ত্রী। অর্জুন সিংয়ের কথায়, ‘টোটো তো টোটালি ইললিগ্যাল। টোটোর কোনও রেজিস্ট্রেশনের সিস্টেম নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের আইন অনুযায়ী ই-রিকশা চালু হবে। ই-রিকশা চালু হলে টোটো রিপ্লেসমেন্ট হবে।’
এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন 'টোটো রেজিস্ট্রেশনের অধিকার পুরসভাগুলির ছিল না।' তৃণমূল সরকারের আমলে পুরসভাগুলি টোটো রেজিস্ট্রেশন করলেও তা আইনসঙ্গতই নয়, এমনটাই দাবি করেন তিনি। টোটো মালিকদের ই-রিকশায় রূপান্তরের সুযোগ দেওয়ার কথাও জানান মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য ছিল, 'আসল টোটো মালিক এবং নির্মাতাদের ডেকে ই-রিকশায় রূপান্তরের বিষয়ে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে দ্রুতগতির গাড়ি চলে এমন প্রধান রাস্তায় টোটোর নিয়ন্ত্রণ করা হবে।' অর্জুনের আরও বলেছিলেন, ‘আজকে মানুষের থেকে বেশি টোটো হয়ে গেছে। তাই ই-রিকশার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট রুটে সীমিত পারমিট থাকবে।’