পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্যপরিষেবায় নতুন অধ্যায়। রবিবার আয়ুষ্মান দিবস উপলক্ষে কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়ুষ্মান ভারত ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবীমা যোজনার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী ও স্বাস্থ্যপরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, নতুন ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের জন্য আরও বেশি চিকিৎসা পরিষেবা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে হাঁটু ও হিপ প্রতিস্থাপনের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা এবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়ার সুযোগ থাকছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। আগে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে প্রায় ১৭০০ ধরনের রোগের চিকিৎসা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
নতুন ব্যবস্থায় সেই সংখ্যা বেড়ে ১৯৫০ হয়েছে। সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন। আর এই প্রকল্পের আওতায় না থাকা প্রায় ৮০ লক্ষ পরিবারকে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবীমা যোজনায় আনা হবে।
সূত্রে খবর, রাজ্যে ১২৪০টি বেসরকারি এবং ৬২৭টি সরকারি হাসপাতালে এই পরিষেবা পাওয়া যাবে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয় দেশের ৩৮ হাজার ৬০৪টি হাসপাতালেও এই সুবিধা মিলবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে, চিকিৎসার জন্য রাজ্যের বাইরে গেলেও উপভোক্তাদের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
রামকৃষ্ণ মিশন পরিচালিত হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। আজকের এই দিনকে আয়ুষ্মান দিবস হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তার বক্তব্য, "আজ 'দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং ডে'। ১০ হাজার হিন্দুকে খুন করা হয়েছিল।
আগের সরকার এই দিন খেলা হবে দিবস পালন করতেন। আমরা আয়ুষ্মান দিবস হিসেবে পালন করব।" তিনি সঙ্গে এও বলেন, “আসুন সবাই মিলে আয়ুষ্মান মন্দির তৈরি করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে ভালো রাখি। কলকাতার ত্রাতা গোপাল মুখোপাধ্যায়কে অন্তর থেকে প্রণাম নিবেদন করে আয়ুষ্মান দিবসের সফলতা প্রার্থনা করলাম।”
জানা গিয়েছে, এদিন আরও ১০০টি অমৃত ফার্মেসী এবং ৪৬৭ টি প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্র চালুর জন্য চুক্তি হয়েছে। স্বাস্থ্যপরিষেবাকে আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে।