কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: একদিকে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ, অন্যদিকে ক্রমশ এগিয়ে আসছে সমুদ্র! বঙ্গোপসাগরের উপকূল ভাঙ্গন যেন দিন দিন আরও বড় আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠছে। এবার সেই ভয়াবহ ভাঙ্গন ঠেকাতে বড়সড় পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য। কপিলমুনি মন্দির সংলগ্ন সমুদ্রসৈকত এবং উপকূলবর্তী এলাকার রক্ষায় এবার কাজে লাগানো হবে বিশেষজ্ঞদের দেওয়া আধুনিক প্রযুক্তি। নেদারল্যান্ডসের উপকূল বিশেষজ্ঞ এবং আইআইটি মাদ্রাজের রিপোর্টের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে মাস্টারপ্ল্যান।
সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই সমুদ্রের ভয়াবহ ঢেউয়ে গঙ্গাসাগরের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা যাচ্ছে। দুর্যোগের সময় পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। প্রবল ঢেউ আছড়ে পড়লে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে সমুদ্র বাঁধের। ফলে, একদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়, এবং অন্যদিকে গঙ্গাসাগরে আসা পুণ্যার্থী এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এবার, সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে জোর দেওয়া হচ্ছে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে। নেদারল্যান্ডস ও আইআইটি মাদ্রাজের বিশেষজ্ঞরা গঙ্গাসাগরের ভূপ্রকৃতি, সমুদ্রের গতিপ্রকৃতি এবং সমুদ্রের ঢেউয়ের চরিত্র খতিয়ে দেখে রিপোর্ট তৈরি করেছেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে সামনে এসেছে নতুন পরিকল্পনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বাঁধ উঁচু ও শক্তিশালী করলেই ভাঙ্গন পুরোপুরি আটকানো সম্ভব নয়। সমুদ্রের ঢেউ সৈকতে আছড়ে পড়ার আগেই তার শক্তি কমিয়ে দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। সেই লক্ষ্যে উপকূলে বিশেষ ব্যবস্থা তৈরীর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয়ে হল 'বিচ নারিশমেন্ট'। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট মানের বিশেষ বালি এনে সমুদ্র বাঁধের নিচে এবং সৈকতের নির্দিষ্ট অংশে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে। এই বালি সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিকভাবে পলি জমার প্রক্রিয়ায় সাহায্য করতে পারে। ফলে, উপকূলের স্থায়িত্ব বাড়বে এবং সমুদ্রবাঁধের আয়ু দীর্ঘ হতে পারে বলে আশা।
সাগর বিধানসভার বিধায়ক সুমন্ত মন্ডল জানিয়েছেন, প্রকল্পের এস্টিমেট তৈরির কাজ চলছে। সেচ দপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর শুরু হবে টেন্ডার প্রক্রিয়া। রাজ্যের লক্ষ্য, আসন্ন গঙ্গাসাগর মেলা শেষ হওয়ার পর এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করা। অর্থাৎ, এবার শুধু ভাঙ্গন ঠেকানো নয়, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গঙ্গাসাগরের উপকূলকে দীর্ঘ মেয়াদ এর সুরক্ষিত করাই মূল লক্ষ্য।