নয়াদিল্লি: ভাগ্নে ইমরান খানের বিরুদ্ধে ভারত ছাড়ার নোটিস, সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ অভিনেতা। এই টানাপড়েনের মধ্যেই মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার প্রধান রাজ ঠাকরের বাড়িতে গিয়ে হাজির হলেন আমির খান। রবিবার মুম্বইয়ের দাদরের ‘শিবতীর্থ’-এ রাজের সঙ্গে দেখা করেন বলিউডের অভিনেতা-পরিচালক। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী গৌরী স্প্র্যাটও বলে জানা গিয়েছে। ইমরানের আইনি লড়াইয়ের আবহে এই সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা আমির বা রাজ—কেউই প্রকাশ্যে জানাননি।
ইমরানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মুম্বইয়ের বিদেশি নাগরিকদের নথিভুক্তিকরণ সংক্রান্ত দফতর বা এফআরআরও-র তরফে। আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে তাঁকে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে বলে খবর। আমেরিকার নাগরিক ইমরান গত ১০ অক্টোবর মুম্বইয়ের অগস্ট ক্রান্তি ময়দানে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ওই বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল ‘সিটিজ়েন্স ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস’ (সিজেপি)। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই প্রতিবাদ হয়েছিল।
ওই কর্মসূচিতে ইমরানের সঙ্গে ছিলেন তাঁর সঙ্গিনী লেখাও ওয়াশিংটন। বিক্ষোভ চলাকালীন দু’জনকেই আটক করা হয়েছিল বলে জানা যায়। এর পরেই ইমরানের নাগরিকত্ব ও ভারতে তাঁর অবস্থানের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ কিরীট সোমাইয়া তাঁর প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান এবং তদন্তের দাবি তোলেন। তার পরেই ইমরানের বিরুদ্ধে ভারত ছাড়ার নোটিস জারি হয় বলে জানা গিয়েছে।
নোটিসকে ‘স্বেচ্ছাচারী’, ‘যুক্তিহীন’ এবং ‘ভুল ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত’ বলে দাবি করেছেন ইমরান। তাঁর বক্তব্য, এই নির্দেশ স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী। নোটিস খারিজ করার আবেদন জানিয়ে তিনি বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। একই সঙ্গে নির্দেশের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আর্জিও জানিয়েছেন। দেশ থেকে বহিষ্কার, লুক আউট সার্কুলার জারি, কালো তালিকাভুক্ত করা কিংবা তাঁর ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) মর্যাদায় প্রভাব ফেলার মতো কোনও পদক্ষেপ যাতে না করা হয়, সেই সুরক্ষাও চেয়েছেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতেই রাজ ঠাকরের সঙ্গে আমিরের সাক্ষাৎ বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। রাজের সঙ্গে আমিরের পরিচয় অবশ্য নতুন নয়। দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যের সম্পর্ক রয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে আমিরের বিয়েতেও উপস্থিত ছিলেন রাজ। ফলে রবিবারের সাক্ষাৎ নিছক ব্যক্তিগত সৌজন্য হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। তবে ইমরানের বিরুদ্ধে নোটিস জারির পর এই বৈঠক হওয়ায় তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
রাজ ঠাকরের দল মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার এক নেতার দাবি, আমিরের সঙ্গে রাজের সাক্ষাতের কোনও সম্পর্ক ইমরানের মামলার সঙ্গে নেই। দুই নেতার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁরা নিয়মিত দেখা করেন বলেও দাবি করা হয়েছে। ফলে বৈঠকের উদ্দেশ্য নিয়ে জল্পনা থাকলেও, ইমরানের আইনি লড়াই নিয়ে রাজের সঙ্গে আমির আলোচনা করেছেন—এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
ইমরানের ঘটনাকে ঘিরে আরও একটি প্রশ্ন উঠেছে—ভারতে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কী ধরনের বিধিনিষেধ রয়েছে? বিদেশি নাগরিকদের ভারতে থাকার অনুমতি এবং ওসিআই কার্ডের অধিকার এক বিষয় নয়। ওসিআই মর্যাদা থাকলেও তা ভারতীয় নাগরিকত্বের সমতুল নয়; নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক অধিকারও এর আওতায় পড়ে না। তবে ইমরানের ক্ষেত্রে ঠিক কোন বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং সেই অভিযোগ কতটা আইনসম্মত, তা আদালতের শুনানিতে স্পষ্ট হতে পারে।
আমির বা রাজ—কেউই এখনও প্রকাশ্যে বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। ফলে ইমরানের মামলার সঙ্গে সাক্ষাতের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। আপাতত এক দিকে বম্বে হাই কোর্টে ইমরানের আবেদন, অন্য দিকে রাজের সঙ্গে আমিরের সাক্ষাৎ—দুই ঘটনাই মুম্বইয়ের রাজনৈতিক ও বিনোদন জগতে আলোচনার কেন্দ্রে।





