নিউজ ডেস্ক: বিরাট কোহলির সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব। একসঙ্গে খেলেছেন আইপিএলে, মাঠের বাইরেও গড়ে উঠেছে গভীর সম্পর্ক। কিন্তু ভারতীয় তারকা ব্যাটারের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা মোটেই খুব মধুর ছিল না দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন অধিনায়ক এবি ডিভিলিয়ার্সের। তাঁর চোখে, তরুণ বিরাট ছিলেন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী, এমনকি কিছুটা অহংকারী ও দাম্ভিকও। তবে সময়ের সঙ্গে সেই স্বভাব বদলেছে। বয়স বাড়ার পাশাপাশি ক্রিকেটার ও মানুষ হিসেবে আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে উঠেছেন কোহলি, এমনটাই মনে করেন ডিভিলিয়ার্স।
প্রখ্যাত সঞ্চালক প্রখর গুপ্তের সঙ্গে এক কথোপকথনে কোহলিকে নিয়ে নিজের প্রথম ধারণার কথা জানান দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন তারকা। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, প্রথমবার দেখা হওয়ার সময় বিরাটকে সত্যিই অহংকারী ও দাম্ভিক বলে মনে হয়েছিল কি না। উত্তরে ডিভিলিয়ার্স বলেন, তাঁর এমনটাই মনে হয়েছিল এবং বিরাট নিজেও সম্ভবত সেই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত হবেন।
কেন এমন ধারণা হয়েছিল, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ডিভিলিয়ার্স। তাঁর মতে, বিরাটের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের মাত্রা ছিল অত্যন্ত বেশি। মাঠে নিজের দক্ষতার উপর তাঁর অগাধ বিশ্বাস ছিল। কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাসকেই অনেক সময় ভুল করে অহংকার বলে মনে হতে পারে। ডিভিলিয়ার্সের ক্ষেত্রেও প্রথম দিকে তেমনটাই হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, বিরাটকে দেখে মনে হয়েছিল, তিনি নিজের ক্ষমতা নিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি আত্মবিশ্বাসী।
ডিভিলিয়ার্স অবশ্য বিষয়টিকে নিছক সমালোচনা হিসেবে দেখেননি। বরং জানিয়েছেন, অল্প বয়সে সাফল্যের শিখরে পৌঁছতে নিজের দক্ষতার উপর প্রবল বিশ্বাস থাকা প্রয়োজন। ১৯, ২০ কিংবা ২১ বছর বয়সে বিরাট ছিলেন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এক তরুণ ক্রিকেটার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের জায়গা তৈরি করা এবং বড় সাফল্য পাওয়ার জন্য সেই মানসিকতা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলেই মনে করেন তিনি।
তবে সময়ের সঙ্গে বিরাটের ব্যক্তিত্বে পরিবর্তন এসেছে। ডিভিলিয়ার্সের মতে, ক্রিকেটে যত উপরে উঠেছেন কোহলি, ততই তাঁর মধ্যে ভারসাম্য বেড়েছে। তরুণ বয়সে নিজেকে প্রমাণ করার যে তাগিদ ছিল, অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা অনেকটাই কমেছে। ফলে অন্যদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রেও আগের সেই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ ধীরে ধীরে বদলে গিয়েছে।
ক্রিকেটের মাঠে বিরাটের আগ্রাসী মনোভাব বরাবরই আলোচনায় থেকেছে। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করার মানসিকতা এবং নিজের সেরাটা দেওয়ার তাগিদ তাঁর খেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ডিভিলিয়ার্সের বক্তব্যে স্পষ্ট, প্রথম দিকে সেই তীব্র আত্মবিশ্বাসকে ভুল বুঝলেও পরবর্তী সময়ে কোহলির ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। তাঁদের দীর্ঘ বন্ধুত্বও সেই পারস্পরিক বোঝাপড়াকে আরও গভীর করেছে।





