কলকাতা, স্নিগ্ধা চৌধুরী: ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ এবং ক্রেডিট কার্ড ব্লক করার মামলায় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হল কলকাতা হাই কোর্টে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের কারণ এবং কেওয়াইসি নিয়ে বৃহস্পতিবার শুনানিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। আদালত জানতে চায়, যখন কেওয়াইসি করার সময়সীমা এখনও শেষ হয়নি, তখন কেন তাঁকে ব্যাঙ্কে গিয়ে কেওয়াইসি করতে হবে।
মামলার শুনানিতে ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে থাকায় অনলাইনে কেওয়াইসি করা সম্ভব নয়। তাই অফলাইনে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। ব্যাঙ্কের আইনজীবী জানান, অভিষেকের বাড়িতে এক জন ব্যাঙ্ককর্মী গিয়ে তাঁর স্বাক্ষর নিয়ে আসবেন। আধার, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স-সহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে তাঁকে।
অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, এখনই কেন তাঁর মক্কেলকে কেওয়াইসি করাতে হবে। তাঁর দাবি, ব্যাঙ্ক আগে থেকে কোনও নোটিস না দিয়েই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে। পাশাপাশি দু’টি ক্রেডিট কার্ডও ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। অথচ ওই অ্যাকাউন্টের কেওয়াইসি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা।
এর পর আদালত জানায়, অভিষেক প্রয়োজনীয় নথি জমা দেবেন এবং ব্যাঙ্কের কর্মী তাঁর বাড়িতে গিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে আসবেন। কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ এবং ক্রেডিট কার্ড চালুর বিষয়টি আদালত দেখবে।
শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণ রাও ব্যাঙ্কের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, অভিষেককে কেন ব্যাঙ্কে গিয়ে কেওয়াইসি করাতে হবে। এমনকি তিনি জানতে চান, “ব্যাঙ্ক কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দেখতে চাইছে?” আদালতের এই মন্তব্যে শুনানির বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অভিষেকের আইনজীবী আদালতকে জানান, আগামী সপ্তাহে তাঁর মক্কেল বিদেশে যাবেন। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সোমবার। তার আগে ব্যাঙ্কের কর্মী বাড়িতে গিয়ে কেওয়াইসির আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ করবেন বলে আদালতে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার বিষয়টি নিয়ে সোমবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন অভিষেকের আইনজীবী। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতেই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ এবং কেওয়াইসি নিয়ে ব্যাঙ্কের অবস্থান স্পষ্ট হয়।