কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসের বাইরে সাইনবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কাণ্ড। এবার ক্যাথিড্রাল রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপনের মঞ্চ থেকে সাইনবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ,একটি সাইনবোর্ড খুলতে গোটা কলকাতা পুলিশকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
অভিষেক বলেন, 'গতকাল অবৈধভাবে আমাদের পার্টি অফিসের বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড খুলতে এসেছিল। গোটা কলকাতা পুলিশ লাগিয়ে দিয়েছে, একটা সাইনবোর্ড খুলবে বলে!' তাঁর বক্তব্য, একটি সাইনবোর্ড সরানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের বিপুল পুলিশি তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এর পরেই বিজেপিকে কড়া বার্তা দেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। অভিষেকের কথায়, 'বিজেপিকে বলব, অত্যাচার ততটাই করুন, যতটা সহ্য করার ক্ষমতা রয়েছে।'
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ বেশ কয়েকজন পুরকর্মী এবং পুলিশ আধিকারিক অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে পৌঁছন। অভিযোগ, অবৈধভাবে ওই বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। তবে তা মানতে চাননি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তাঁরা পার্টি অফিসের ভিতর প্রবেশ করতে চান। কিন্তু বাধা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৈধ নোটিশ দেখাতে না পারার অভিযোগ তুলে সরব হন অভিষেক। ফলে সেখান থেকে চলে যেতে হয় ওই পুর আধিকারিককে। পরে তারা পুলিশ ফোর্স নিয়ে আবার ফিরে আসে। ক্যামাক স্ট্রিটের বাউন্সার ও নিরাপত্তারক্ষীদের সরিয়ে সটান ভিতরে ঢুকে যায় পুলিশ। তারপরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ইতিমধ্যে, ক্যামাক স্ট্রিটে অশান্তির ঘটনায় মোট ৩টি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রুজু হওয়া তিনটে মামলার মধ্যে একটি মামলা করেছেন শেক্সপিয়ার স্মরণী থানার এক অফিসার, একটি মামলা করেছেন পার্কস্ট্রিট থানার এক অফিসার এবং কলকাতা পুরসভার তরফে একটি মামলা করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, এফআইআরগুলিতে অভিযুক্ত হিসাবে অভিষেক ছাড়াও নাম রয়েছে ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, হুমায়ুন কবীরদের। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়া,পার্ক স্ট্রিট থানার আধিকারিকের তরফে দায়ের করা মামলাটি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রুজু হয়েছে।