কলকাতা, পিউ নন্দী: নেতা হয়েছিলেন কিন্তু রাজনীতি নয় অভিনয়েই কেন জীবন কেটে গেল জানালেন সাবিত্রী? অজিত গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত কালজয়ী বাংলা ছবি ‘হংসরাজ’-এর মুক্তির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে কলকাতা প্রেস ক্লাবে বসেছিল এক চাঁদের হাট। এই বিশেষ দিনেই আত্মপ্রকাশ করল ছবিটির নামভূমিকায় অভিনয় করা শিল্পী অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়ের কলমে রচিত স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘সাদা-কালো স্মৃতি’। আর সেই বইয়ের আনুষ্ঠানিক উন্মোচনে মধ্যমণি হয়ে ধরা দিলেন প্রবীণ অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্মৃতির সরণি বেয়ে শৈশবের দিনগুলোতে ফিরে যান অভিনেত্রী। তিনি বলেন, তাঁর নেতা হতে চাওয়ার অপ্রকাশিত এক ইচ্ছার গল্প। সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় জানান, ছোটবেলায় বাবাকে তিনি জানিয়েছিলেন নেতা হওয়ার স্বপ্নের কথা। তবে বাবা তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, তার জন্য প্রয়োজন প্রচুর পড়াশোনা ও পাণ্ডিত্য কিন্তু পরিবারের অর্থনৈতিক দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ায় পড়াশোনার চেয়ে জীবনের লড়াইটাই বড় হয়ে দাঁড়ায় তাঁর সামনে। বাধ্য হয়েই খুব অল্প বয়সে তাঁকে পেশাদার অভিনয়ের মঞ্চে পা রাখতে হয়, যা পরবর্তীকালে তাঁকে বাংলা চলচ্চিত্রের এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের স্নেহের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই অরিন্দমের শিল্পগুণ, বিশেষ করে তাঁর গানের প্রতি নিজের অনুরাগের কথা জানিয়ে সাবিত্রী দেবী বলেন, শুটিংয়ের ফ্লোরে সুযোগ পেলেই অরিন্দমকে গান গাইতে অনুরোধ করা হতো। অর্ধশতক পেরিয়ে সেই ফেলে আসা দিনগুলোকে বইয়ের পাতায় সুন্দরভাবে ধরে রাখার জন্য লেখককে সাধুবাদ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টলিউড ও সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্টজনেরা। অলোকা গঙ্গোপাধ্যায়, কবি শুভ দাশগুপ্ত, বর্ষীয়ান অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী এবং সঙ্গীতশিল্পী স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্তের উপস্থিতিতে আসর জমে ওঠে। তবে ৫০ বছরের এই উদযাপনে বিশেষ চমক ছিল ‘হংসরাজ’ ছবিতে অভিনয় করা সেই সময়ের অন্যান্য শিশুশিল্পী স্বর্ণালী নাগ , বিউটি মুখোপাধ্যায়, সামু এবং নীরুর পুনর্মিলন।