নিউজ ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মানুষের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনাও সামনে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে এআইয়ের কারণে এক লাখ ২০ হাজারের বেশি পদ ছাঁটাইয়ের তথ্য সামনে এসেছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় আমেরিকা, কানাডার মতো উন্নত দেশগুলিতে এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে।
২০২৫ সালের মে মাসে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং পোল্যান্ডের ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্রতি চারজন কর্মীর মধ্যে একজন এমন পেশায় নিযুক্ত, যেখানে জেনারেটিভ এআইয়ের প্রভাব পড়তে পারে। দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজে এই ঝুঁকি বেশি। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরো চাকরি বিলুপ্ত হওয়ার চেয়ে কাজের ধরন পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, অনেক পেশায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও মানুষের বিচার-বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, যোগাযোগ এবং তদারকির প্রয়োজন থেকেই যায়।
এআইয়ের প্রভাব শুধু ছাঁটাইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বদলে যাচ্ছে কাজের ধরনও। তথ্য বিশ্লেষণ, নথি তৈরি, গ্রাহকসেবা, টেলিমার্কেটিং, ডেটা এন্ট্রি, অনুবাদ এবং সফটওয়্যার তৈরির মতো কাজে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে কোনও কোনও প্রতিষ্ঠানে একই পরিমাণ কাজের জন্য কম কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন প্রাথমিক স্তরের কর্মীরা, যাঁরা সদ্য পড়াশোনা শেষ করে চাকরির বাজারে পা রেখেছেন। মূলত তাঁদের করা অনেক কাজই এআইয়ের সাহায্যে সহজে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ বেকারত্বের মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, কৃষিকাজ থেকে শুরু করে নির্মাণকাজ, পণ্য ও খাবার সরবরাহ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, স্কুলে শিক্ষকতা এবং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার মতো পেশায় মানুষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। এমনকী চিকিৎসাক্ষেত্রেও এআই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার বাড়লেও একজন চিকিৎসকের ভূমিকা পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পক্ষে সম্ভব নয়।
এআইয়ের মোকাবিলা করার জন্য স্কুল-কলেজ স্তরে শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যে কাজগুলি এআই করতে পারে না, সেগুলি ছাত্রছাত্রীদের আরও বেশি করে শেখাতে হবে। স্কুল স্তরেও সময়ের দাবি মেনে কর্মমুখী কোর্স চালুর কথা ভাবা উচিত। প্রাথমিক স্তরের কর্মীরাই ভারতের কর্মসংস্থান ব্যবস্থার মেরুদণ্ড। তাই তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়েই উদ্বেগ বেশি। এখন দেশের সরকার এই মেরুদণ্ডকে সুরক্ষিত রাখতে এআইকে কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে প্রস্তুত, সেটাই বড় প্রশ্ন।
প্রযুক্তিকে বর্জন করা কোনও সমাধান হতে পারে না। বরং, তৈরি হওয়া সংকট কাটিয়ে উঠতে সেই প্রযুক্তিকেই কীভাবে কাজে লাগানো সম্ভব, তা খুঁজে বের করতে হবে।





