অবসরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার পর প্রথম ফোনটাই এসেছিল শচীন তেন্ডুলকরের কাছ থেকে। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে জানালেন, ক্রিকেটজীবন শেষ করার ভিডিও সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করার পরেই তাঁকে ফোন করেন ‘মাস্টার ব্লাস্টার’। রাহানের দাবি, শচীন কিছুটা হতাশ হয়েই বলেছিলেন, তিনি ভেবেছিলেন আরও অনেক দিন ভারতের হয়ে খেলবেন। তবে রাহানে তাঁকে জানান, কোনও আক্ষেপ নিয়ে ক্রিকেট ছাড়ছেন না। ৩৮ বছরের ব্যাটার জানিয়েছেন, শচীন ছাড়াও ইরফান পাঠান তাঁকে ফোন করেছিলেন। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, জশপ্রীত বুমরাহ এবং চেতেশ্বর পুজারারা তাঁকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন।
রাহানের কথায়, সকলকেই তাঁর একই উত্তর ছিল। ক্রিকেটকে তিনি নিজের সবটুকু দিয়েছেন, তাই অবসরের সিদ্ধান্তে কোনও আফসোস নেই। তবে অবসরের ভিডিও রেকর্ড করার সময় নিজেকে সামলাতে পারেননি তিনি। পরিবারের সঙ্গে অবসর নিয়ে আলোচনা করার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন আগেই। কিন্তু ভিডিও রেকর্ড করতে গিয়ে সেই আবেগ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। রাহানে বলেন, ‘‘রেকর্ড করার পর অনেক কেঁদেছিলাম।’’ এত বছর যে খেলাটাকে ভালবেসেছেন, সেটা থেকেই সরে যেতে হচ্ছে। এই বাস্তবতাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছিল।
ভারতের টেস্ট দলের অন্যতম ভরসার নাম ছিলেন রাহানে। বিশেষ করে বিদেশের পেস ও সুইং সহায়ক পরিবেশে তাঁর ব্যাটিং দক্ষতা ছিল দলের বড় সম্পদ। লাল বলের ক্রিকেটে কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করার জন্যই আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে পুজারা এবং কোহলির সম্পর্ক নিয়েও কথা উঠেছে অবসরের পর। রাহানে জানিয়েছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে পুজারার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সময় কেটেছে। আর ভারতের হয়ে খেলার সময় কোহলির সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটিয়েছেন। দু’জনের লক্ষ্য ছিল একটাই। ভারতীয় টেস্ট দলকে বিশ্বের সেরা জায়গায় পৌঁছে দেওয়া।
রাহানে জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে টেস্ট ক্রমতালিকায় ভারত ষষ্ঠ বা সপ্তম স্থানে ছিল। সেখান থেকে ধীরে ধীরে দল উঠে আসে এক নম্বরে। সেই যাত্রাপথে কোহলি ও পুজারার সঙ্গে মাঠের বাইরেও ক্রিকেট নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করতেন তিনি। সাফল্যের পাশাপাশি কঠিন সময়ও একসঙ্গে কাটিয়েছেন তাঁরা। রাহানের কথায়, ‘‘আমরা একে অপরের কাছ থেকে শিখেছি, খেলা নিয়ে বিশ্লেষণ করেছি এবং একটা শক্তিশালী বন্ধন তৈরি হয়েছিল।’’ সেই দীর্ঘ পথচলার ইতি টেনে অবশেষে ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।