নিউজ ডেস্ক: রাজপথের ক্ষোভ কখন যে বড়সড় অস্থিরতার রূপ নেয়, তারই ছবি দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের একটি দেশে। দিনের পর দিন জমে থাকা অসন্তোষ, প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এবং রাজনৈতিক চাপ সব, মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা গুলিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রশ্ন উঠেছে, এই অস্থিরতার শেষ কোথায়?
আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আন্দোলনের পঞ্চম দিনে বিক্ষোভকারীদের একাংশ সুপ্রিম কোর্ট ভবনের কিছু অংশে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে জানা গিয়েছে। আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এই ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
এই আন্দোলনের সূত্রপাত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যাকে কেন্দ্র করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার খরচ বৃদ্ধি, আবাসনের সংকট শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ এবং ডিগ্রি অর্জনের পর কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, একাধিক বিষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন পড়ুয়ারা। ধীরে ধীরে সেই আন্দোলনে যোগ দেন সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকেরা। শিক্ষার্থীদের দাবি ছাপিয়ে আন্দোলনের কেন্দ্রে চলে আসে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী এদি রামার সরকারের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি রয়েছে। তাই তাঁরা সরকারের পরিবর্তন চাইছেন। পাশাপাশি, দক্ষিণ আলবেনিয়ার উপকূলবর্তী এলাকায় বিলাসবহুল পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের একটি প্রকল্প নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত এই প্রকল্প ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষের কথাও উঠে এসেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালীন কেন্দ্রীয় ব্যাংক, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং কয়েকটি ডাকঘরেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। পাথর ও পেট্রোল বোমা ছোড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জল কামান, কাঁদানো গ্যাস এবং রাবার বুলেট ব্যবহার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষে বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারীদের আটক করার খবরও পাওয়া গিয়েছে।
অন্যদিকে, পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রধানমন্ত্রী রামা। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা আলবেনিয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ফলে, একদিকে সরকারের অবস্থান এবং অন্যদিকে বিরোধীদের চাপ এই দুইয়ের মাঝে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন পথে এগোয় এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।





