না আছে প্রশাসক, আর না আছে পৌর বোর্ড। একেবারে অভিভাবকহীন আলিপুরদুয়ার পৌরসভা। কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের রায়ের পর প্রশাসক নেই, একের পর এক বদলি হয়ে যাচ্ছেন এগজিকিউটিভ অফিসারও। ফলে রীতিমতো মুখ থুবড়ে পড়ছে পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামো। আর এতে চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের। পুরকর্মীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তাদেরও প্রশ্ন, 'কে আসছেন, কে যাচ্ছেন, কিছুই তো বোঝা যাচ্ছে না!'
পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে নতুন এক্সিকিউটিভ অফিসার দায়িত্ব নিলেও তার দেখা মিলছে না পুরদফতরে বলে অভিযোগ পুরকর্মীদের। এরই পাশাপাশি পুরকর্মীরা আরও বলেছেন, এক্সিকিউটিভ অফিসার বদলি হওয়ার পরেই নতুন আধিকারিক এসেছিলেন কিন্তু মাত্র দুদিনের মধ্যে তিনিও বদলি হয়ে চলে গিয়েছেন। এরকম পরিস্থিতিতে পুরসভার কাজ থমকে গিয়েছে।
সরকারি নিয়ম অনুসারে পুরসভায় নিয়মিত হাজির হতে হচ্ছে কর্মীদের। সই-সাবুদও করতে হচ্ছে। কিন্তু পৌর পরিষেবার কোনও উপকার পাচ্ছে না সাধারণ মানুষজন। উন্নয়নমূলক সমস্ত কাজ থমকে গিয়েছে। লাইসেন্স, অ্যাকাউন্টস, বার্থ সার্টিফিকেট, হোল্ডিং প্রায় প্রতিটি বিভাগেই একই ছবি। কর্মীরা আছেন, অথচ সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো কেউ নেই। ব্যাহত হচ্ছে পৌর পরিষেবা।
পুরসভার এই অচলাবস্থার নেপথ্যে রয়েছে বোর্ড গঠন নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েন। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের কাউন্সিলাররা নতুন বোর্ড গঠনের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই আবেদন খারিজ হওয়ার পর ফের রিট পিটিশন দায়ের করেছেন তাঁরা। মামলাটি এখনও বিচারাধীন।
আলিপুরদুয়ার পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার তথা কংগ্রেস নেতা শান্তনু দেবনাথের দাবি, ‘পুরসভার অবস্থা ভালো নয়। কোনও কাজই হচ্ছে না। প্রশাসক নেই, এগজিকিউটিভ অফিসারও নেই। সমস্ত কাজ থমকে গিয়েছে’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, 'অনৈতিক ভাবে বোর্ড ভেঙে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল হয়েছে। তারপরেও বোর্ড গঠনের দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাই আমরা আবারো আইনি লড়াইয়ে পথে নেমেছি। এখন আদালতই শেষ কথা বলবে।'
এ বিষয়ে আলিপুরদুয়ারের মহকুমাশাসক রিচার্ড লেপচা বলেন, 'কি পদক্ষেপ গ্ৰনহ করা হবে, তা জানতে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরকে জেলাশাসকের চিঠি দেওয়ার কথা। তিনি দিয়েছেন কি না জানি না। আমি আগে প্রশাসক ছিলাম, এখন নেই। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর থেকে কি নির্দেশ আসে, সেটাই দেখতে হবে। সেই মতোই পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে'
আলিপুরদুয়ার পুরসভায় বর্তমানে চেয়ার আছে, কর্মীও আছে, দফতরও আছে। নেই শুধু সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেউ। আদালতের রায়, প্রশাসনিক বদলি আর বোর্ড গঠন নিয়ে আইনি টানাপোড়েনের মাঝে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে নাগরিকদের। এই সমস্যা কবে সমাধান হয় সেদিকেই তাকিয়ে পৌরবাসী।