দীর্ঘদিন আগেই স্ত্রী ছেড়ে চলে গিয়েছেন স্বামীকে। সেই স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার আশায় এক ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটিয়ে বসলেন স্বামী। আশ্রয় নিলেন ব্ল্যাক ম্যাজিকের! তার জন্য গ্রামের এক ব্যক্তিকে নিমন্তন্ন করে খাওয়ানোর নাম করে প্রথমে করা হয় খুন, তারপর তার দেহ টুকরো করে একাংশ ফেলে দেওয়া হয় পুকুরে। কাটা মুন্ডু রাখা হয় ঠাকুর ঘরের মেঝেতে পুঁতে। হাড়হিম এই ঘটনা রীতিমতো ঘুম উড়িয়েছে আশেপাশের এলাকার মানুষদের। ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশা রাজ্যে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৮ আগস্ট থেকে নিখোঁজ ছিলেন বছর পঁয়তাল্লিশের সন্তোষ খারসেল। দু’দিন পর একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় তাঁর মুণ্ডহীন দেহ। এরপরই রহস্যের কিনারা করতে তদন্তে নামে পুলিশ।
আর তদন্ত নেমে সাহু নামে এক ব্যক্তির নাম উঠে আসে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে সন্তোষ নিখোঁজ হওয়ার আগেই সাহু নামে ওই ব্যক্তির সঙ্গেই শেষবার তাকে দেখা গিয়েছিল। আর তাতেই পুলিশের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। প্রথমে তাকে জিজ্ঞাসাবয়দের জন্য আটক করে পুলিশ। প্রথমে ওই ব্যক্তি সমস্ত কিছু অস্বীকার করলেও, পরবর্তীতে সময় যত এগোই ততই প্রকাশ্যে আসে ভয়াবহ সত্য।
অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি দাবি করেন পুলিশের কাছে, সন্তোষকে নিমন্ত্রণ করে বাড়িতে ডেকে খাওয়ান তিনি। খাওয়ার পর সন্তোষ ঘুমিয়ে পড়লে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথা কেটে দেন। এরপর দেহের বাকি অংশ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আর কাটা মুণ্ডু পুঁতে দেওয়া হয় বাড়ির ঠাকুরঘরের মেঝেতে।
তদন্তকারীদের অনুমান, স্ত্রীকে ফিরে পেতে অন্ধবিশ্বাসের পথ বেছে নিয়েছেন অভিযুক্ত। কারণ দীর্ঘ ১০ বছর আগেই তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। তাই স্ত্রীকে ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। তদন্তে এও জানা গিয়েছে সন্তোষ এবং অভিযুক্তের আগে কোনও পরিচয়ও ছিল না। ঘটনার দিনই নাকি প্রথম তাঁদের দেখা হয়েছিল।
এই ঘটনায় প্রথমে কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিল তদন্তকারীরা। কারণ তাদের মনে হয়েছিল পুলিশকে ভুল বোঝাতেই মুন্ডু কেটে অন্য জায়গাতে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে অভিযুক্তের বাড়ির ঠাকুর ঘরে যখন কাটা মুন্ডু পাওয়া যায় তখনই অন্ধবিশ্বাস ও ব্ল্যাক ম্যাজিকের কথা উঠে আসে।
এই ঘটনাকে ঘিরে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যে সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনা সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।