নিউজ ডেস্ক: একসময় ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই আশঙ্কার মেঘ জমতো সাধারণ মানুষের মনে। বুথ দখল, বোমাবাজি আর প্রাণহানির চেনা ছবি দেখে অভ্যস্ত ছিল দেশের নানা প্রান্ত। কিন্তু সেই কালিমালিপ্ত অধ্যায় পেরিয়ে দেশ এখন নির্বাচনী হিংসামুক্তির পথে হাঁটা শুরু করেছে। বিশেষত, পশ্চিমবঙ্গে সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচন সম্পূর্ণ রক্তপাতহীন ও প্রাণহানিমুক্তভাবে সম্পন্ন হওয়াকে গোটা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বুধবার নয়াদিল্লির চাণক্যপুরীতে অবস্থিত ন্যাশনাল পুলিশ মেমোরিয়ালে ‘পুলিশ স্মৃতি দিবস’ উপলক্ষে এক ভাবগম্ভীর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দেশের সুরক্ষায় আত্মবলিদান দেওয়া বীর পুলিশকর্মীদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলার সাম্প্রতিক ভোট পরিস্থিতির প্রসঙ্গটি বিশদভাবে তুলে ধরেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, অতীতে উত্তরপ্রদেশ কিংবা বিহারের মতো রাজ্যে নির্বাচনী হানাহানি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তা ছিল একরকম অলীক কল্পনা।
কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিকভাবেই বাংলায় ভোট মানেই একাধিক প্রাণহানি ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের বহু নজির রয়েছে। তবে সেই দীর্ঘদিনের পরিচিত ছবি বদলে দেওয়ার মূল কারিগর হিসেবে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী-র অকুতোভয় জওয়ানদের ভূয়সী প্রশংসা করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “মাস ছয়েক আগের বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকালে বোঝা যাবে পরিস্থিতি কতটা বদলেছে। অতীতে বহু মানুষের মৃত্যু দেখেছে এই রাজ্য। কিন্তু সাম্প্রতিক নির্বাচনে একটিও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এই অসাধ্যসাধন করে সিএপিএফ-এর জওয়ানরা এক দৃষ্টান্তমূলক নজির গড়েছেন।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, এই সাফল্যের হাত ধরেই আজ সর্বভারতীয় স্তরে প্রমাণিত হয়েছে যে, গোটা দেশই কার্যত নির্বাচনী হিংসার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার পথে পৌঁছে গেছে।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি গণতন্ত্রের উৎসবকে শান্তিপূর্ণ রাখা যে পুলিশবাহিনীর এক গুরুদায়িত্ব, সে কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে গড়ে ওঠা এই জাতীয় স্মৃতিসৌধ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রক্ষীদের দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, স্বাধীনতার পর থেকে দেশজুড়ে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৩৬,৮৫২ জন নির্ভীক পুলিশকর্মী। কেবল চলতি বছরেই দেশের নিরাপত্তা রক্ষা করতে গিয়ে তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরও ১৫৪ জন বীরের নাম। ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো-র ডিরেক্টর মহেশ দীক্ষিত এই আত্মত্যাগী জওয়ানদের নাম পাঠ করেন। শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশে মাথা নত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্তা দেন, দেশমাতৃকার নিরাপত্তায় তাঁদের এই আত্মবলিদান চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।





