স্পোর্টস ডেস্ক: ক্রিকেটে ফেরার স্বপ্নটা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। তবু হাল ছাড়েননি অনয়া বাঙ্গার। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে খেলার সুযোগ করে দেওয়ার আবেদন নিয়ে বিসিসিআইয়ের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, জবাবে এসেছিল শুধুই ‘নীরবতা’। সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ২৫ বছরের ট্রান্স-অ্যাথলিট অনয়া জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর কাছে “হতাশাজনক এবং হৃদয়বিদারক”। তাঁর বাবা প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ও কোচ সঞ্জয় বাঙ্গার। ২০২২ সালে নিজের রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেন অনয়া। চলতি বছরের মার্চে হয় জেন্ডার-অ্যাফার্মিং সার্জারি। তার পরেও ক্রিকেটের মাঠে ফেরার ইচ্ছেটা মুছে যায়নি।
বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে সাড়া না পেলেও অস্ট্রেলিয়ায় খুলেছে নতুন দরজা। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার হেড অব ইন্টিগ্রিটি জ্যাকি পার্টরিজের সঙ্গে যোগাযোগ করেন অনয়া। ট্রান্স ক্রিকেটারদের মহিলা ক্রিকেটে খেলার নীতি সম্পর্কে জানতে পেরে জুন মাসে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তার পরের প্রক্রিয়াটি ছিল তুলনায় দ্রুত এবং মসৃণ। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাঁকে কমিউনিটি শিল্ড স্তরে খেলার অনুমতিও দিয়েছে। অনয়ার কথায়, নিজের পরিচয় নিয়েই ফের ক্রিকেটে নামার সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে বিরাট ব্যাপার। এক সময় মনে হয়েছিল, রূপান্তরের পর আর কোনও দিন ক্রিকেট খেলতে পারবেন না। এখন সেই আশাটাই নতুন করে জেগেছে।
এই অভিজ্ঞতার পরে ভারতের ক্রিকেট প্রশাসনের কাছেও তাঁর আবেদন স্পষ্ট। অনয়া মনে করেন, ভবিষ্যতের জন্য বিসিসিআইয়ের একটি সুস্পষ্ট নীতি তৈরি করা প্রয়োজন। কারণ, তাঁর দাবি অনুযায়ী, ভারতীয় ক্রিকেটে তিনিই এই ধরনের প্রথম ঘটনা। তাঁর বক্তব্য, নীতি তৈরির ক্ষেত্রে নিজের অভিজ্ঞতা এবং পথচলা দিয়ে তিনি বোর্ডকে সাহায্য করতে প্রস্তুত। “আমি দলের অংশ হতে চাই, পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশের মহিলা ক্রিকেটে কী ভাবে এই বিষয়টি এগোনো যায়, সে বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতেও চাই", এমনই বার্তা দিয়েছেন তিনি। বিসিসিআইয়ের নীরবতা তাঁকে অবশ্য ভেঙে দেয়নি। বরং কঠিন সময় তাঁকে আরও শক্ত এবং পরিণত করেছে বলেই মনে করেন অনায়া।
এখন লক্ষ্য একটাই। মাঠে ফিরে পারফরম্যান্স দিয়ে নিজের জায়গা তৈরি করা। ইতিমধ্যেই কয়েকটি ক্রিকেট ক্লাবের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে তাঁর। উপযুক্ত ক্লাব বেছে নিয়ে সেখান থেকেই শুরু করতে চান নতুন অধ্যায়। আপাতত লক্ষ্য ক্লাব ক্রিকেটে ভাল খেলা। তার পরে সুযোগ এলে মহিলা বিগ ব্যাশ লিগেও খেলার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। দীর্ঘ দিন ‘সারভাইভাল মোড’-এ থাকার পর এখন ধীরে ধীরে নিজের অভিজ্ঞতাগুলি আত্মস্থ করছেন অনয়া। ক্রিকেটের জন্য পরিবার, পরিচিত জীবন এবং নিজের বহু অভ্যাস বদলাতে হয়েছে। তবু সেই পথচলাকে পিছনে ফিরে দেখলে তাঁর কৃতজ্ঞতাই বেশি। তাঁর কাছে লড়াইটা শুধু মাঠে ফেরার নয়, নিজের পরিচয় নিয়েই ক্রিকেটের মাঠে দাঁড়ানোর।