বাম আমলে লাল দুর্গ বীরভূম। সেই পরিস্থিতিও তিনি তৃণমূলের বিধায়ক হন। রামপুরহাটের বাজার সংলগ্ন এলাকায়, নিজের স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।তবে এসব কিছু ছাপিয়ে তার অধ্যাপক পরিচিতিই ছিল সকলের কাছে অনেক বেশি জনপ্রিয়। সকলের কাছেই স্যার হিসেবে সম্মান পেতেন। আজ সকালে কিছু মানুষ জানলা দিয়ে দেখেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর দেহ ঝুলছে। এরপরেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়, পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে।
এই ঘটনাটি ঘটার ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই প্রতিক্রিয়া জানালেন ' কালীঘাট তৃণমূল ' শিবিরের মুখপাত্র কুণাল কুমার ঘোষ। তিনি তাঁর সমাজমাধ্যম ফেসবুক থেকে একটি বিস্ফোরক পোস্ট করেন। যেখানে তিনি লেখেন 'আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই ভাষায় হুমকি, অপমান, কলঙ্ক চাপিয়ে দিয়েছিল বিজেপি। 'ভালো তৃণমূল' যেতে হয়েছিল তাঁকে। সেখানকার 5/6টা ধান্দাবাজ নেতা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত। বিজেপি আর পুলিশের মদতে তাদের তৃণমূলভাঙার রাজনীতির বাইরে কিছু করার নেই। চাটনরা এই অপমানের পরেও আশিসদার পাশে দাঁড়ায়নি। ঘটনাক্রমের পরিণতিতে আজ আশিসদার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার। এই হুমকির ঘটনাকেও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অপরাধ বলে গণ্য করতে হবে।'
কিন্তু, এই কথা উঠল কেন? তার কারণ ওই পোস্টেই একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ২১শে জুলাই শহিদ দিবস পালন করতে যাচ্ছিলেন আশীষ বন্দোপাধ্যায়। রাস্তাতেই তাঁর গাড়ি আটকায় কয়েকজন যুবক। তারা হঠাৎ প্রাক্তন বিধায়ক তথা মন্ত্রীর গাড়ির দরজা খুলে দেন। তারা রুক্ষ ভাবে কথা বলেন এবং শাসাতে থাকেন - 'কী করতে যাচ্ছেন? যে শহিদ গুলো হয়েছে, কী জবাব দেবেন? দলটা শেষ করে এখন শহিদ দিবসে যাচ্ছেন? বয়স্ক না হলে মেরে পিঠের ছাল তুলে নিতাম।' প্রসঙ্গত, তৃণমূলের ঘর ভাঙা রাজনীতি শুরু হলে তিনি ঋতব্রতর পক্ষে যোগ দেন।
এরই পরবর্তী পোস্টে কুণাল ঘোষ আরও বলেন -
'বীরভূমে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু। বলা হচ্ছে আত্মহত্যা, সুইসাইড নোটও নাকি পাওয়া গেছে, তবু বলব, ঘটনা অনুসন্ধানসাপেক্ষ। ভাবা যাচ্ছে না। নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।
1) কোনো দোষ প্রমাণের আগে কাউকে অপবাদ, কলঙ্ক, সামাজিক অপদস্থ করার যে প্রবণতা বিজেপি শুরু করেছে, এই ঘটনা তার পরিণাম। কিছুদিন আগেই রাস্তায় তাঁকে বিজেপি নেতার অপমান করার যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তাকেও আত্মহত্যায় প্ররোচনা বলে ধরা উচিত।
2) 'ভালো তৃণমূল' হয়েও বাঁচা যায় না। কারণ ওখানকার পাঁচ ছ'জন শুধু নিজেদের পাপ ঢাকার জন্যে বিজেপির পা চাটতে গেছে। সসম্মানে ওই রাজনীতি করা যায় না। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে গেলে মমতাদির নেতৃত্বে এককাট্টা থাকতে হবে। নইলে বালিশচাটন আর পাঁচ ছ'জন নিজেদের ধান্দা গোছাবে। আশিসদাকে আত্মহত্যা করতে হবে। এটা তো ওই শিবিরেরও ব্যর্থতা।
3) আশিসদাকে চাপ দিয়ে ওই শিবিরে নেওয়া হয়েছিল। উনি দলীয় নেতাদের বলার চেষ্টা করছিলেন মমতাদির নেতৃত্বে থাকাই ভালো।( যেটা আরও অনেকের মতামত)। কিন্তু দুর্নীতির তদন্ত থেকে বাঁচতে ওদিকে যাওয়া কয়েকজন আশিসদাকে চাপ দিয়ে সঙ্গে থাকতে বাধ্য করেছিলেন বলে সূত্রের খবর।
4) আত্মহত্যাই, না কি অন্য রহস্য আছে, তদন্তকারীরা দেখুন। পুলিশ, প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করুক। প্রকৃত সত্য সামনে আসুক। আশিসদার আত্মহত্যা/রহস্যমৃত্যু বাংলার এই পরিবর্তিত রাজনীতির লজ্জা। প্রাক্তন বিধায়ক ও ডেপুটি স্পিকারকে রাজনীতির ঘূর্ণিতে আত্মহত্যা করতে হচ্ছে, এ লজ্জা রাখব কোথায়?