প্যারা এশিয়ান গেমসে সাঁতারে ভারতের পদক জয়ের ধারা অব্যাহত। বুধবার পুরুষদের ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকের এস১৩ বিভাগে রুপো জিতলেন রবি কার্তিক বুদিগিনা। অন্য দিকে, পুরুষদের ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকের এস১১ বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতলেন হিমাংশু নন্দন। একই দিনে পুরুষদের ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকের এসবি৪ বিভাগে আরও একটি ব্রোঞ্জ এনে দেন রোহিত কুমার। জাপানের নাগোয়া শহরে চলা প্রতিযোগিতায় ভারতীয় প্যারা সাঁতারুদের এই সাফল্য দেশের পদক তালিকায় আরও সংযোজন করল।
রবি ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে দ্বিতীয় হয়ে রুপো জেতেন ১ মিনিট ১০.১০ সেকেন্ড সময় করে। এই প্রতিযোগিতায় তাঁর সামনে ছিলেন উজবেকিস্তানের এগর বলোটভ। তিনি ৫৮.৪৩ সেকেন্ডে সাঁতার শেষ করে এশীয় রেকর্ড গড়ে সোনা জেতেন। চিনা তাইপেইয়ের ফেং-ইউয়ান ইয়ে ১ মিনিট ১২.০৫ সেকেন্ড সময় করে ব্রোঞ্জ পান। রবি এর আগে পুরুষদের ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলের এস১৩ বিভাগেও রুপো জিতেছিলেন। ফলে চলতি প্রতিযোগিতায় এটি তাঁর দ্বিতীয় রুপো। অন্ধ্রপ্রদেশের ১৮ বছর বয়সি এই সাঁতারু ২০২৫ সালের এশিয়ান যুব প্যারা গেমসে তিনটি সোনা ও তিনটি রুপো জিতেছিলেন।
হরিয়ানার রোহতকের ২২ বছর বয়সি হিমাংশু নন্দনও নিজের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন। পুরুষদের ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকের এস১১ বিভাগে তিনি ১ মিনিট ২০.৭২ সেকেন্ডে সাঁতার শেষ করে তৃতীয় হন। চিনের ইয়াং বোজুন ১ মিনিট ১২.৬৯ সেকেন্ডে গেমসের রেকর্ড গড়ে সোনা জেতেন। জাপানের কেইচি কিমুরা ১ মিনিট ১২.৭২ সেকেন্ডে দ্বিতীয় হয়ে রুপো পান। এই প্রতিযোগিতায় হিমাংশুর এটি দ্বিতীয় ব্রোঞ্জ। এর আগে পুরুষদের ৪০০ মিটার ফ্রিস্টাইলের এস১১ বিভাগে ৫ মিনিট ১০.৯১ সেকেন্ড সময় করে তৃতীয় হয়েছিলেন তিনি। তবে ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলির এসএম১১ বিভাগে চতুর্থ স্থানে শেষ করায় পদক পাননি।
হিমাংশু জন্ম থেকেই দৃষ্টিশক্তিহীন। তাঁর দৃষ্টিশক্তির সমস্যা অপটিক নার্ভের ত্রুটির কারণে। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলোর পরিবেশে বড় হয়েছেন তিনি। তাঁর বাবা জাতীয় স্তরে হকি খেলেছেন। চার বছর বয়সে দিল্লিতে চলে আসার পর হিমাংশু ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ব্লাইন্ডে যোগ দেন এবং ব্রেইল শেখেন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মা রাম সনাতন ধর্ম কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক হওয়ার পরে প্রথমে জুডোতে অংশ নিতেন তিনি। জাতীয় স্তরে পদকও জিতেছিলেন। ২০২১ সালে সাঁতারকে বেছে নেন। ২০২৪ সালে প্যারিস প্যারালিম্পিক্সের যোগ্যতামান অর্জন করা প্রথম ভারতীয় দৃষ্টিহীন সাঁতারু হন হিমাংশু। ২০২৫ সালে সিঙ্গাপুরে বিশ্ব প্যারা সাঁতার প্রতিযোগিতাতেও দু’টি ইভেন্টের ফাইনালে উঠেছিলেন তিনি।
ভারতের পদক তালিকায় আরও একটি ব্রোঞ্জ যোগ করেন রোহিত কুমার। পুরুষদের ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকের এসবি৪ ফাইনালে তিনি ১ মিনিট ৫৭.২৫ সেকেন্ড সময় করে তৃতীয় হন। মালয়েশিয়ার মুহাম্মদ বিন জুলকাফলি ১ মিনিট ৪১.৪৪ সেকেন্ডে গেমসের রেকর্ড গড়ে সোনা জেতেন। কাজাখস্তানের আলি তুরগানবেকভ রুপো পান। ৫০ মিটার অতিক্রম করার সময় রোহিত চতুর্থ স্থানে ছিলেন। শেষ পর্বে গতি বাড়িয়ে পদক নিশ্চিত করেন তিনি। সব মিলিয়ে প্যারা সাঁতারে রবির দ্বিতীয় রুপো এবং হিমাংশু ও রোহিতের ব্রোঞ্জ ভারতের পদক সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।





