নিউজ ডেস্ক: পুজোর আনন্দের মাঝেই তন্ত্রসাধনা ও কুসংস্কারের মর্মান্তিক বলি হলেন এক গৃহবধূ ও তাঁর শ্বশুর। নিজের স্ত্রী এবং বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল পরিবারের একমাত্র ছেলের বিরুদ্ধে। শিউরে ওঠার মতো এই রক্তারক্তি কাণ্ডটি ঘটেছে বাঁকুড়ার সোনামুখী ব্লকের দামোদর নদের চর সংলগ্ন লালবাবা মানা এলাকায়। অভিযুক্ত যুবক মঙ্গল চৌধুরীকে ইতিমধ্যেই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার সময়ে নিজের আঙুল কেটে ফেলায় ও পরে শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেওয়ায় বর্তমানে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কড়া পুলিশি পাহারায় তাঁর চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দামোদর নদের তীরের নিভৃত ওই চরে সপরিবারে বাস করত চৌধুরী পরিবার। একসময় চাষবাস করেই তাদের সংসার চলত। কিন্তু গত প্রায় দেড় বছর ধরে চাষের কাজ পুরোপুরি শিকেয় ওঠে। পরিবর্তে দিনরাত তন্ত্রসাধনা ও নানা ধরনের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে মেতে থাকতেন মঙ্গল ও তাঁর স্ত্রী।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গভীর রাতে বাড়ির ভিতর সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় তন্ত্রের পুজোপাঠ চালাতেন ওই দম্পতি। অদ্ভুত সব ক্রিয়াকলাপের কারণে প্রতিবেশীরাও তাদের বাড়ি থেকে দূরত্ব বজায় রাখতেন।
গ্রামের বাসিন্দা কৃষ্ণ মুরারী চৌধুরী জানান, আগে বাবা ও ছেলে মিলে গ্রামের শ্মশান কালী মন্দিরে পুজো করতেন। কিন্তু মাস কয়েক আগে আচমকাই নিজেদের ভিটেয় একটি নতুন কালী মন্দির গড়ে তোলেন তাঁরা। তারপর থেকেই সেখানে গোপনে নানা তান্ত্রিক পুজো শুরু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মহাঅষ্টমীর রাতে বাড়ির সেই মন্দিরে এক তান্ত্রিকের নির্দেশে বিশেষ সাধনায় বসেছিলেন মঙ্গল। অন্ধবিশ্বাসের বশে চরম উন্মাদনায় সাধনা চলাকালীন প্রথমে নিজের হাতের আঙুল কেটে রক্ত দেন তিনি। এর পরই ধারালো অস্ত্র তুলে নিয়ে প্রথমে নিজের স্ত্রী এবং পরে বাবাকে কুপিয়ে খুন করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় দু’জনকে মেঝেতে লুটিয়ে পড়তে দেখে খবর যায় সোনামুখী থানায়।
পুলিশ তড়িঘড়ি এলাকায় পৌঁছে জোড়া মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং রক্তাক্ত অবস্থাতেই মঙ্গলকে গ্রেপ্তার করে। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের মতে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখনও পর্যন্ত যুবকের আচার-আচরণে কোনও অস্বাভাবিক মানসিক ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ মেলেনি।
ইতিমধ্যেই পুলিশি হেফাজতে অভিযুক্তকে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়েছে। সরকারি আইনজীবী শঙ্খজিৎ রায় জানান, এক তান্ত্রিকের মদতে ও চরম অন্ধবিশ্বাসের জেরেই এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পুনর্নির্মাণ ও ওই চক্রের মূল তান্ত্রিকের সন্ধান পেতে পুলিশ ১০ দিনের হেফাজতের আর্জি জানালেও বিচারক ৭ দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। একবিংশ শতাব্দীতেও তন্ত্রসাধনার নামে এমন নারকীয় হত্যাকাণ্ডে গোটা সোনামুখী চত্বরে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে।





