স্পোর্টস ডেস্ক: চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নিজেদের শক্তি বুঝিয়ে দিল বার্সেলোনা। লামিনে ইয়ামালের দুরন্ত পারফরম্যান্সে রিয়াল বেতিসকে ৫-২ গোলে হারাল হান্সি ফ্লিকের দল। এই জয়ের ফলে স্প্যানিশ লিগে নিজেদের অপরাজিত থাকার ধারাও বজায় রাখল বার্সেলোনা। অন্য দিকে ফরাসি লিগে স্ত্রাসবুর্গকে ৩-১ গোলে হারিয়ে জয়ের সরণিতে ফিরেছে পিএসজি। ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দুই শক্তিশালী দলের লড়াইয়ের আগে দু’দলই আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে বার্সেলোনা। মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় দুরন্ত গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইয়ামাল। বক্সের ঠিক বাইরে বল পেয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার ফাকুন্দো বেরনালকে কাটিয়ে পায়ের কারিকুরিতে জায়গা তৈরি করেন তিনি। তারপরে বাঁ পায়ে নেওয়া শট বেতিসের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়। ইউরোপের বিভিন্ন লিগে শনিবারের অন্যতম সেরা গোল হিসাবে বিবেচিত হয়েছে ইয়ামালের এই শট।
তবে গোল করার পরেও বিতর্কে জড়িয়েছেন স্পেনের এই তরুণ তারকা। প্রথমার্ধে ভ্যালেন্তিন গোমেজের গোলে সমতা ফেরায় বেতিস। বার্সেলোনাকে ফের এগিয়ে দেন রদ্রি। বিরতির আগে জিওভানি লো সেলসোর একটি গোল বাতিল হয় ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্তে। দ্বিতীয়ার্ধে গ্যাব্রিয়েল জেসুসের গোলে বার্সেলোনা ব্যবধান বাড়ায়। ইয়ামালের পাস থেকেই আসে সেই গোল। দু’মিনিটের মধ্যে আবদে এজ্জালজুলির গোলে ব্যবধান কমায় বেতিস।
এর পরেই মাঠে উত্তেজনা ছড়ায়। ইয়ামাল ও বেরনালের মধ্যে বলের বাইরে সংঘর্ষ হয়। বেরনালের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির পর ইয়ামাল মাটিতে পড়ে যান। রেফারি বেরনালকে লাল কার্ড দেখান এবং ইয়ামালকে হলুদ কার্ড দেন। এরপর এরিক গার্সিয়া বার্সেলোনার চতুর্থ গোল করেন। ম্যাচের শেষ দিকে দানি ওলমো পঞ্চম গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।
বার্সেলোনার মতো পিএসজিও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আগে জয় পেয়েছে। স্ত্রাসবুর্গের বিরুদ্ধে প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল তারা। ১৭ মিনিটে গোল করেন জিও রেইনা। পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের কথা মাথায় রেখে উসমান দেম্বেলে, দেজিরে দুয়ে, ভিতিনিয়া, নুনো মেন্ডেস ও আশরাফ হাকিমিকে প্রথম একাদশে রাখেননি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্ত হিসেবে নামেন তাঁরা। ৭২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন দেম্বেলে। পাঁচ মিনিট পরে ইলিয়া জাবারনির গোলে সমতা ফেরায় পিএসজি। ৮৫ মিনিটে দেম্বেলে দলকে এগিয়ে দেন। অতিরিক্ত সময়ে দুয়ে গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।
বার্সেলোনা এ মরসুমে লিগের প্রতিটি ম্যাচ জিতেছে। বেতিসের বিরুদ্ধে পাঁচ গোল করে আক্রমণভাগের শক্তিও দেখিয়েছে তারা। তবে পিএসজির মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এই রক্ষণাত্মক ভুলগুলি এড়ানো জরুরি। ইয়ামালের ব্যক্তিগত দক্ষতা, দ্রুত পাস এবং আক্রমণে সৃজনশীলতা বার্সেলোনার বড় ভরসা। অন্য দিকে পিএসজিও দেম্বেলে ও দুয়ের মতো তারকাদের নিয়ে পাল্টা আক্রমণে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লড়াইয়ে দুই দলের আক্রমণভাগই বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে।





