মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিল দামাস্কাসের একটি ফৌজদারি আদালত। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে এই সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। একই মামলায় বাশারের এক আত্মীয় আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পূর্বপরিকল্পিত হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে নাজিবকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
২০০০ সালে বাবার উত্তরসূরি হিসেবে সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন বাশার আল-আসাদ। কিন্তু ২০১১ সালে তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পর দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। দীর্ঘ ১৩ বছরের সংঘাত, রক্তক্ষয় এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বাশার সরকারের পতন ঘটে।
২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম বা এইচটিএস সিরিয়ার তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান শুরু করে। একের পর এক শহর দখল করে তারা দ্রুত রাজধানী দামাস্কাসের দিকে অগ্রসর হয়। শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহীরা রাজধানীতে প্রবেশ করার আগেই সপরিবার সিরিয়া ছেড়ে রাশিয়ায় চলে যান বাশার। এরপর আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে।
বাশারের শাসনকালে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং বেআইনি ভাবে মানুষকে আটক করে রাখার অভিযোগ উঠেছিল। সংঘাত চলাকালীন সাধারণ মানুষের উপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে সিরিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে। ২০১৩ সালে রাসায়নিক হামলার ঘটনায় বাশারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে গুরুতর অভিযোগ ওঠে।
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাশারের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি এবং প্রমাণ পর্যালোচনার পর আদালত তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। তাঁর আত্মীয় আতেফ নাজিবকেও একই ভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তবে বাশার বর্তমানে সিরিয়ায় নেই। সরকারের পতনের পর রাশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। ফলে আদালতের এই রায় বাস্তবে কী ভাবে কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।