জমি অধিগ্রহণ নিয়ে বাম সরকার বেশ কয়েকটি বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিল। সেখান থেকেই শিক্ষা নিয়েছে বর্তমান শাসক দল বিজেপি। তাই শিল্পের জন্য সরাসরি জমি কিনতে চায়না বা অধিগ্রহণের পথে হাঁটতে নারাজ বাংলার বিজেপি সরকার। তবে সেক্ষেত্রে গুজরাত, হরিয়ানা ও অন্ধ্রপ্রদেশে ব্যবহৃত ল্যান্ড পুলিং বা 'জমি একত্রীকরণ ব্যবস্থা' নামে একটি মডেল আনার পরিকল্পনা নিয়েছে নবান্ন। এই নীতি কীভাবে কাজ করে?
সূত্রের খবর রাজ্য সরকার এই ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী থাকবেন। তারা কোনও বেসরকারি সংস্থা বা জমির মালিকদের কাছ থেকে বাজারদরে জমি কিনবেন। এরপর জমি-বিক্রেতাদের অবস্থা বুঝে এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাদের সংস্থার শেয়ারের একটি অংশ দেবেন। জমির বিনিময়ে নগদ অর্থের দাবি না করে কৃষকরা কেন শেয়ার নেবেন? প্রশ্ন উঠছে এখানেই।
এই বিষয়ে নবান্নের কোনও উচ্চবাচ্য করেনি। পশ্চিমবাংলায় জমির মালিকানা বর্তমানে খণ্ড-বিখণ্ড অবস্থায় রয়েছে। এই নীতির সাফল্য তখনই হবে, যখন রাজ্য সরকার এই আকর্ষণীয় প্রস্তাব দ্বারা পাশাপাশি অবস্থানের জমি হাজার হাজার কৃষককে বিক্রির জন্য রাজি করাতে সক্ষম হবে। এই নীতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গত মাসের বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি বলেছিলেন 'সরকার সরাসরি জমি ক্রয় করবে এবং শিল্প প্রকল্পের জন্য তা বেসরকারি সংস্থাগুলোর কাছে হস্তান্তর করবে।'
এই প্রসঙ্গে জমি নীতি তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক আধিকারিকের বক্তব্য, 'বাংলায় এই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে, কারণ এখানে জমিটি বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজন হবে। ইচ্ছুক কৃষকরা তাঁদের প্লটের বাজারমূল্য পাবেন এবং সেই প্লটে গড়ে ওঠা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শেয়ারের একটি নির্দিষ্ট অংশও তাঁদের দেওয়া হবে। এর ফলে তাঁদের জন্য একটি নিশ্চিত আয়ের ব্যবস্থা হবে। সরকার বিনিয়োগকারীদের—অথবা জমি প্রয়োজন এমন অন্য কোনও সংস্থাকে এই পদ্ধতির মাধ্যমে জমি সংগ্রহ করতে সহায়তা করবে।