নয়াদিল্লি: প্যারিস থেকে ফেরার পর দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে। শুধু তাই নয়, তাঁকে ৫০ হাজার টাকার চালানও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে আম আদমি পার্টি (আপ)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে আপ। যদিও চালান দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
আপের পাঞ্জাব শাখার মিডিয়া ইনচার্জ বলতেজ পান্নুর অভিযোগ, গত ১৯ অক্টোবর প্যারিস থেকে ফেরার পর বিমানবন্দরে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। বারবার তাঁকে জানানো হচ্ছিল, তাঁর লাগেজ আসতে দেরি হচ্ছে অথবা লাগেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরে বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর অনুমতি পেলেও গাড়িতে লাগেজ তোলার পর ফের তাঁর কাছে আসেন আধিকারিকেরা বলে দাবি করেছেন পান্নু।
তাঁর অভিযোগ, আধিকারিকেরা জানান, উপরমহল থেকে তাঁদের উপর চাপ রয়েছে। এরপরই ভগবন্ত মানকে ৫০ হাজার টাকার চালান দেওয়া হয় বলে দাবি আপের। তবে কী কারণে এই চালান দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। ঘটনাটির পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা-ও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
কেন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব আপ?
আপের অভিযোগ, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীকে অপদস্থ করার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। দলের আরও দাবি, বিদেশ সফরের মাধ্যমে পাঞ্জাবের জন্য বিনিয়োগ ও আর্থিক সুযোগ তৈরির চেষ্টা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। তবে এই অভিযোগের সমর্থনে কোনও স্বাধীন প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।
কী কারণে প্যারিসে গিয়েছিলেন ভগবন্ত মান?
পাঞ্জাবের কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরতেই প্যারিস সফরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত আয়োজিত SIAL Paris 2026 আন্তর্জাতিক খাদ্য বাণিজ্য প্রদর্শনীতে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল তাঁর এই সফর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে এই সফরের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক অনুমতি না পাওয়ায় পাঞ্জাব সরকার পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়। আদালতের হস্তক্ষেপের পর সফরের পথ খুলেছিল বলে জানানো হয়েছে।
অতিরিক্ত লাগেজ নিয়েও উঠল প্রশ্ন
এই বিতর্কে মুখ খুলেছেন শিরোমণি অকালি দলের নেতা বিক্রম সিং মাজিথিয়া। তাঁর দাবি, বিমানবন্দরে ভগবন্ত মান ও তাঁর স্ত্রী গুরপ্রীত কৌরকে অতিরিক্ত লাগেজ অথবা অনুমোদিত সীমার বেশি অর্থ বহনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের কর্মীদের লাগেজও পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ তাঁর।
তবে এই দাবিগুলিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ঠিক কী কারণে মুখ্যমন্ত্রীকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল এবং ৫০ হাজার টাকার চালান কেন দেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট না হওয়ায় বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। আপাতত গোটা ঘটনায় কেন্দ্র ও আপের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।





