স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শেষবার জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন ভুবনেশ্বর। রোহিতের নেতৃত্বে সেবার সেমিফাইনালে উঠেছিল ভারত। তবে ইংল্যান্ডের কাছে ১০ উইকেটে হেরে বিদায় নিতে হয়। এর পর থেকেই জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন সুইং বোলিংয়ের এক সময়ের এই সেরা শিল্পীকে। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেট ও আইপিএল-এ ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আবার নির্বাচকদের নজরে আসেন এই অভিজ্ঞ পেসার।
দীর্ঘ ৪ বছর পর আবার ভারতের জার্সিতে ভুবনেশ্বর কুমার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দলে ছিলেন ভুবি। কিন্তু বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ার কারণে বল করা হয়নি। বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই সুযোগ পেলেন। তবে থাকলেন উইকেটহীন। তাঁর সঙ্গে ভারতের পেস অ্যাটাক সামলেছেন অর্শদীপ, মায়াঙ্ক যাদব ও নীতিশ কুমার রেড্ডি।
বৃহস্পতিবারের আগে পর্যন্ত ভারতের হয়ে ৮৮ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ভুবনেশ্বর। নিয়েছেন ৯০ উইকেট। ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে IPL-এ নতুন বলে ভারতীয় পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন। এই ৪ মরশুমে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে ৬০টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। প্রথম ৬ ওভারে নতুন বলে তাঁর উইকেট সংখ্যা ৪২। এই সময়ে ভারতীয় পেসারদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে থাকা মহম্মদ সিরাজের চেয়ে ৩টি বেশি উইকেট নিয়েছেন ভুবনেশ্বর। শেষ ৪ মরশুমে তাঁর ইকোনমি রেট ছিল ওভার প্রতি ৭.৫১ রান। এই সময়ে ভারতীয় পেসারদের মধ্যে শুধু জসপ্রীত বুমরাহ তাঁর চেয়ে কম রান দিয়েছেন।
নতুন বলে সুইং, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থ এবং চাপের মুখে বল করার অভিজ্ঞতাই বিশেষত্ব ভুবনেশ্বরের। পাওয়ারপ্লে-তে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলার পাশাপাশি ডেথ ওভারেও কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেন তিনি। মাঝের ওভারগুলিতে ভুবনেশ্বরকে সাধারণত বল করতে দেখা যায় না। IPL-এর গত ৪ মরশুমে এই সময়ে মাত্র ১৮ ওভার বল করেছেন তিনি। সেই পর্বে প্রত্যাশিত হিসাবের তুলনায় দলকে ১০ রান বেশি খরচ করতে হয়েছে। ফলে নতুন বলে তাঁর দক্ষতা কাজে লাগানোই দলের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ইনিংসের শেষ ৫ ওভারেও ভুবনেশ্বর নির্ভরযোগ্য। দীর্ঘ ৪ বছর পর জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ কাজে লাগিয়ে পুরনো ছন্দ ফিরে পাওয়াই এখন একমাত্র চ্যালেঞ্জ ভুবির কাছে।




