নিউজ ডেস্ক: কথায় বলে, বিশ্বাসে মেলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর। তবে সেই বিশ্বাস যদি হয় এক সন্তানের মায়ের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা আর ভক্তির মেলবন্ধন, তবে তা যেন সমস্ত প্রতিকূলতাকে ছাপিয়ে যায়। ঠিক এমনই এক বিরল ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে গোটা দেশ। অসুস্থ মায়ের আরোগ্য কামনায় দেবাদিদেব মহাদেবের কাছে মানত করেছিলেন তিনি। মা সুস্থ হয়ে উঠতেই সেই শপথ পূরণে বাড়ি থেকে একাই বেরিয়ে পড়েছেন বিহারের অররিয়া জেলার ১৯ বছর বয়সী তরুণ মনু মেতুরবালা। লক্ষ্য দেশের ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গ প্রদক্ষিণ করা, তাও কোনো গাড়িতে চেপে নয়, নিজের পায়ে দৌড়ে।
সূত্রের খবর, এই তীর্থযাত্রার দূরত্ব প্রায় ৮,০০০ কিলোমিটার। চলতি বছরের ১৫ মার্চ নিজের গ্রাম থেকে এই অসম্ভব যাত্রার সূচনা করেছিলেন মনু। প্রতিকূল আবহাওয়া, পিচঢালা তপ্ত রাস্তা আর ক্লান্তি কোনো কিছুই থামাতে পারেনি তাঁর অদম্য সংকল্পকে। জানা গেছে, প্রতিদিন নিয়ম করে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ দৌড়ে অতিক্রম করছেন এই তরুণ।
https://x.com/MeghUpdates/status/2113243561072251120
এই দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রাপথে মনু ইতিমধ্যেই পাঁচটি জ্যোতির্লিঙ্গে পৌঁছে পুজো দিয়েছেন এবং মহাদেবের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেছেন। বাকি রয়েছে আরও সাতটি জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন। পথে যেতে যেতে অনেকেই এই দৃশ্য দেখে থমকে দাঁড়াচ্ছেন। পরনে সাধারণ পোশাক, মুখে একটাই নাম "হর হর মহাদেব"। রাস্তার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পথচলতি পুলিশ কর্মী, অনেকেই তাঁর পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন, উৎসাহ দিচ্ছেন এবং তাঁর এই কঠোর তপস্যার প্রশংসা করছেন। মনু জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে তাঁর মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
চিকিৎসকদের চেষ্টার পাশাপাশি তখন তিনি শিবের চরণে প্রার্থনা জানান, মা যদি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন, তবে তিনি খালি পায়ে দৌড়ে দেশের সবকটি জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন করবেন। মা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠতেই নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করতে আর এক মুহূর্তও দেরি করেননি তিনি।
আজকের যুগে যেখানে স্বার্থপরতার ভিড়ে পারিবারিক মূল্যবোধ হারিয়ে যেতে বসেছে, সেখানে মনুর এই ত্যাগ ও মাতৃভক্তি সমাজমাধ্যমে বিপুল সাড়া ফেলেছে। নেটপাড়ায় অনেকেই তাঁকে বর্তমান যুগের ‘শ্রাবণ কুমার’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর দৌড়ের ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়তেই প্রশংসার জোয়ার বইছে। এক যুবকের এমন নিষ্ঠা প্রমাণ করে দেয় ভালোবাসার টান আর গভীর আত্মবিশ্বাস থাকলে কোনো পথই অসম্ভব নয়। সাতটি জ্যোতির্লিঙ্গ এখনও বাকি থাকলেও, মনুর চোখে-মুখে এখন শুধু একটাই লক্ষ্য সংকল্প পূরণ করে সুস্থ মায়ের কোলে ফিরে যাওয়া।





