কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: ভোট এখনও হয়নি। প্রার্থী নিয়ে চূড়ান্ত হিসাব এখনও শেষ হয়নি। নন্দীগ্রামের মাটিতে ফের জমে উঠেছে রাজনৈতিক উত্তাপ। আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোরদার প্রস্তুতি। ভোটের লড়াই শুরু হয়নি কিন্তু তার আগেই জয়লাভের হিসেব নিয়ে শুরু হয়ে গেল বড়সড় আলোচনা। কিন্তু এবারের লড়াই বিজেপির লক্ষ্য শুধুমাত্র জয়লাভ নয় বরং আরও বড় নজির গড়ে তোলা। ফলে, ভোটের পূর্বেই নন্দীগ্রামে ভোটের অঙ্ক নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।
সূত্রে খবর, নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি কর্মীদের আরও জোরকদমে প্রচারে নামার বার্তা দিয়েছেন বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, নন্দীগ্রামে শুধু জয়লাভ করলেই চলবে না বরং জয়ের ব্যবধান হতে হবে নজিরবিহীন। যা আগের একাধিক রাজনৈতিক রেকর্ডকে পেছনে ফেলে দেবে। সেই লক্ষ্যেই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এদিন শুভেন্দুর বক্তব্যে উঠে এসেছে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফলতায় বিজেপির যে বিপুল পরিমাণে জয় লাভ হয়েছিল নন্দীগ্রামেও যেন সেই রকমের বড় ব্যবধানের জয়লাভ করে বিজেপি। অর্থাৎ, উপনির্বাচনে বিজেপির কাছে লক্ষ্য শুধুমাত্র আসন ধরে রাখা বা জয় লাভ করা নয়, জয়ের ব্যবধানকেও রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে এই দল। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। মঞ্চ থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী "রেকর্ড ভাঙতে হবে। ফলতাকে হারিয়ে নন্দীগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সকলে কথা দিন আমাকে নন্দীগ্রামে জয়ের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে ফেলতে হবে"।
তবে, এই আত্মবিশ্বাসের কারণও তুলে ধরেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়কার স্থানীয় মানুষদের বিরুদ্ধে থাকা রাজনৈতিক মামলাগুলি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতির কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
ফলে, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে এবার লড়াইটা শুধুমাত্র কে জিতবে তা নিয়ে নয়। বরং কত বড় ব্যবধানে জয়লাভ হবে সেই প্রশ্নও সামনে আসছে। বিজেপির এই বিশাল ব্যবধানের টার্গেট এখন রাজনৈতিক চর্চার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। এখন, ভোটের ফলাফলের টার্গেট কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।




