কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে বিলবোর্ড খোলা কেন্দ্র করে বিতর্ক আরও বাড়ল। এবার অশান্তির ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনকে নোটিস পাঠাল কলকাতা পুলিশ। সোমবার শেক্সপিয়ার সরণি থানায় তাঁকে হাজির হতে বলা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে ডেরেক ও’ব্রায়েনের বাড়িতে পৌঁছন থানার আধিকারিকেরা। কয়েক বার ডাকাডাকিও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। বেশ কিছুক্ষণ পরে এক জন প্রতিনিধি বেরিয়ে এলে তাঁর হাতেই সমনের নোটিস তুলে দেওয়া হয়। সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশকর্মীদের সঙ্গে বিবাদের অভিযোগে তলব করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
ডেরেক ও’ব্রায়েনের পাশাপাশি তৃণমূলে সর্বভারতীয় সাধারন সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও একই মামলার তদন্তে নোটিস দেওয়া হয়েছে। তাঁকে আগামী ১ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় শেক্সপিয়ার সরণি থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে। পরপর দু’দিনে তৃণমূলের দুই শীর্ষ নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার। সেদিন বিকেলে আচমকা কয়েকজন পুরকর্মী এবং পুলিশ আধিকারিক অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে বিলবোর্ড খুলতে আসেন। তাঁরা পার্টি অফিসের ভিতর প্রবেশ করতে চান। কিন্তু বাধা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিযোগ,অবৈধভাবে ওই বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। তবে তা মানতে চাননি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। বৈধ নোটিশ দেখাতে না পারার অভিযোগ তুলে সরব হন অভিষেক। ফলে সেখান থেকে চলে যেতে হয় ওই পুর আধিকারিককে। পরে তারা পুলিশ ফোর্স নিয়ে আবার ফিরে আসে। ক্যামাক স্ট্রিটের বাউন্সার ও নিরাপত্তারক্ষীদের সরিয়ে সটান ভিতরে ঢুকে যায় পুলিশ।
এরপরেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া,পুলিশকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং ধাক্কাধাক্কির মতো একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় মোট ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা নেতাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



