আপনার শরীরে ভিতরে কী চলছে , তার উপর নজর রাখার জন্য অনেকই স্মাট ওয়াচ কেনেন । আপনার পছন্দের প্রিয় হাতঘড়িটি প্রাণে বাঁচিয়েছে,এইরকম অনেক উদাহরণ আছে। সত্যিই কি স্মার্ট ওয়াচ হার্ট অ্যাটাকের আগাম সঙ্কেত দিতে পারে?স্মার্টওয়াচই যেন আপনার চিকিৎসক!
একটি স্মার্টওয়াচ কাউকে হার্ট অ্যাটাক সম্পর্কে সতর্ক করতে পারে? কারও শরীরে কোন রোগ বাসা বেঁধেছে কিনা সেটাও বলে দিতে পারে । বিভিন্ন গবেষকেরা এমনটাই বলছেন । সারা দিনে আপনি কতটা হাঁটালেন ,সারাদিন ধরে ক্রমাগত হৃদস্পন্দনের ধরণ ট্র্যাক করে। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কত সেটাও বলে দিতে পারে আপনার স্মার্ট ওয়াচ ।
এখন অনেকেরই পছন্দ স্মার্ট ওয়াচ । সারাদিন ফিটনেস চেক করার জন্য অনেকেই স্মার্ট ওয়াচ বা ফিটনেস ট্র্যাকার কিনে থাকেন। বিপদের সময়ে অনেকেরই প্রাণ বাঁচিয়েছে এই স্মার্ট ওয়াচ। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, স্মার্ট ওয়াচে এমন অ্যালগরিদম থাকে, যেটি আপনার হাতে থাকলে নাড়ির গতি নির্ধারণ করতে পারে। এই ঘড়িটি পড়ার ফলে ,আপনি কতটা কাজ করছেন, তার ফলে হৃৎস্পন্দনের ওঠানামা কেমন হচ্ছে, সেটা স্বাভাবিক কিনা সেটাও বলে দিচ্ছে।
হৃদস্পন্দনেরহার কত, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রাও কত সেটাও নির্ধারণ করতে পারে স্মার্ট ওয়াচ। স্মার্ট ঘড়ি যখন হার্টের সমস্যা শনাক্ত করতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা আছে কি না বলে দিতে পারে স্মার্ট ওয়াচ। এই ঘড়ির মধ্যে স্মার্ট ফিটনেস ট্র্যাকার থাকে । এর মধ্যে রয়েছে জিপিএস। যার মাধ্যমে প্রত্যেকের শরীর অনুযায়ী আলাদা আলাদা ক্যালোরি মাপার ব্যবস্থা থাকে। একজন সাধারণ মানুষের হার্টবিট মিনিটে ৬০-১০০র মধ্যে থাকে এবং হৃৎস্পন্দনের নির্দিষ্ট ছন্দ থাকে। হার্টের প্রতিনিয়ত সঙ্কোচন- প্রসাধণের সময়ে ছন্দের হেরফের ঘটে। তবে সেটারও একটা মাত্রা আছে, সেটা বেশি কম হলে ভাবনার বিষয়।
চিকিৎসকদের ভাষায়, নিয়মিত হৃৎস্পন্দন না হওয়াকে কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া বলা হয়। হার্ট রেট কম থাকার করণে অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন হয়, তার থেকে হার্ট ব্লকেজও হতে পারে । একম হলে নানা রকম লক্ষণ দেখা যায়, যেমন মাথা ভন ভন করা, বুক ধড়ফড়, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা, জ্ঞান হারিয়ে যাওয়ার মতন উপসর্গ দেখা যায়। সেক্ষেত্রে হৃৎস্পন্দন ৬০-এর নীচে নেমে যায়। হৃৎস্পন্দন ঠিক আছে কিনা! হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না, তা বলে দিতে পারে স্মাট ওয়াচ ।
এই বিষয় নিয়ে নানা গবেষকের নানা মতামত আছে । কিছু কিছু চিকিৎসকের মতে , স্মার্ট ওয়াচের ক্ষমতা সীমিত। এটি কেবলমাত্র রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা, হার্ট রেট হিসাব করতে পারে । কিন্তু নির্ভুল তথ্য দিতে পারে না । খুব দ্রুত হাঁটলেও হার্ট রেট ওঠানামা করে, আবার হরমোনাল সমস্যা, মানসিক চাপ, অতিরিক্ত ধূমপান, অতিরিক্ত উদ্বেগ-দুশ্চিন্তা থেকেও অনিয়মিত ও দ্রুত হৃৎস্পন্দন হতে পারে। অন্য কোনও রোগের কারণেও এই সমস্যার সূত্রপাত হতে পারে। যেমন রক্তচাপজনিত সমস্যা, ডায়াবিটিস বা অতীতে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্মার্ট ওয়াচের দেওয়া সব তথ্য নির্ভুল না-ও হতে পারে।