জম্মু ও কাশ্মীর, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: কাশ্মীরকে ‘ভূস্বর্গ’ এমনি এমনি বলা হয় না। পাহাড়, নদী, মেঘ আর বরফের মায়াবী মেলবন্ধনে এই উপত্যকা বরাবরই পর্যটকদের কাছে স্বপ্নের ঠিকানা। আর সেই স্বপ্নের ছবিতেই এখন যোগ হয়েছে আধুনিক ভারতের এক বিস্ময়। চেনাব রেল সেতু। আর সেই সেতুর উপর দিয়ে ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে চলা বন্দে ভারত এক্সপ্রেস যেন প্রকৃতি আর প্রযুক্তির এক অভাবনীয় যুগলবন্দি।
জম্মু ও কাশ্মীরের রিয়াসি জেলায় চেনাব নদীর উপর তৈরি এই সেতু বিশ্বের উচ্চতম রেলসেতু হিসেবে পরিচিত। নদীর তলদেশ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৩৫৯ মিটার। অর্থাৎ প্যারিসের বিখ্যাত আইফেল টাওয়ারের থেকেও প্রায় ৩৫ মিটার উঁচুতে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই বিশাল ইস্পাতের কাঠামো। সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১,৩১৫ মিটার। পাহাড়ের গা বেয়ে উঠে যাওয়া এই সেতুর বিশাল ধনুকাকৃতি আর্চ দূর থেকেই নজর কাড়ে।
তবে চেনাব সেতুর আসল জাদু তার উচ্চতায় নয়, বরং চারপাশের প্রকৃতির সঙ্গে তার মেলবন্ধনে। কখনও ঘন সাদা মেঘ এসে সেতুর নীচে ভেসে বেড়ায়, কখনও আবার মেঘ সরতেই চোখের সামনে খুলে যায় পাহাড়ি উপত্যকার বিস্তৃত দৃশ্য। সেই মেঘের বুক চিরে যখন বন্দে ভারত ছুটে যায়, দৃশ্যটি যেন কোনও সিনেমার পর্দা থেকে উঠে আসা।
সেতুর নীচে সরু ফিতের মতো বয়ে চলেছে নীলচে-সবুজ চেনাব নদী। দু’পাশে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকা সবুজ পাহাড় যেন রেলপথটিকে পাহারা দিচ্ছে। প্রকৃতির সবুজ ক্যানভাসের মাঝে ইস্পাতের বিশাল আর্চ তাই এক অদ্ভুত অথচ অপূর্ব বৈপরীত্য তৈরি করেছে।
ঋতু বদলের সঙ্গে বদলে যায় চেনাবের রূপও। বর্ষায় পাহাড় আরও সবুজ, শীতে বরফের চাদরে ঢেকে যায় চারপাশ। আর সেই সাদা পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে বন্দে ভারত ছুটে চলার দৃশ্য নিঃসন্দেহে চোখে লেগে থাকার মতো। এক দিকে হিমালয়ের অনাবিল সৌন্দর্য, অন্য দিকে মানুষের অসাধারণ প্রকৌশল। চেনাব সেতুতে দাঁড়িয়ে যেন একই সঙ্গে দেখা যায় প্রকৃতি ও আধুনিক ভারতের দুই মুখ।