নিউজ ডেস্ক: মাথাটি ঠেকে রয়েছে ধুলোমাখা মেঝেতে, পিঠ ঝুঁকে উল্টো দিকে আর দুটো পা ছড়ানো একটি প্লাস্টিকের চেয়ারের হাতলের ওপর! আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে কোনো অত্যন্ত কঠিন যোগাসনের মহড়া চলছে। কিন্তু পরনের খাকি উর্দি আর চরম অপ্রকৃতিস্থ ভাবভঙ্গি নিমেষেই ভেঙে দেয় সেই ভুল। উত্তরপ্রদেশের চিত্রকূটের কারবি এলাকায় মদ্যপ অবস্থায় কর্তব্যরত এক হেড কনস্টেবলের এমন এক অদ্ভুত শারীরিক কসরতের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র শোরগোল তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি নজরে আসতেই ওই পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি দোকানের সামনে রাখা সাধারণ নীল রঙের চেয়ারে বসতে গিয়ে সম্ভবত ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন ওই পুলিশকর্মী। অতিরিক্ত মদ্যপানের জেরে তিনি এতটাই বেহুঁশ ছিলেন যে, শরীর উল্টে গিয়ে মাথা মেঝেতে আছড়ে পড়লেও তাঁর কোনো হুঁশ ফেরেনি। চেয়ারে পা আটকে থাকা অবস্থাতেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন তিনি। আশপাশের সাধারণ মানুষ এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন। পথচলতি অনেকেই দাঁড়িয়ে যান এবং মোবাইল ক্যামেরায় দৃশ্যটি বন্দি করতে শুরু করেন। ভিডিওর নেপথ্য কণ্ঠে এক প্রত্যক্ষদর্শীকে ব্যঙ্গ করে বলতে শোনা যায়, “ইউপি পুলিশ… বাবাজির সরকার… দেখুন কারবিতে পুলিশের কীর্তি!”
https://x.com/Shahnawazreport/status/2113112841716953479
মুহূর্তের মধ্যে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়। সামাজিক মাধ্যমে তীব্র কটাক্ষ ও রসিকতায় মেতে ওঠেন নেটিজেনরা। কেউ ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেন, “আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রস্তুতি কি আগেভাগেই শুরু হয়ে গেল?” আবার কেউ লেখেন, “এই নতুন যোগাসনের নাম কী দেওয়া যায় ‘সুরাসন’ নাকি উল্টো শীর্ষাসন?” তবে হাসির আড়ালে জনমানসে পুলিশের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ নিয়ে চরম ক্ষোভও উগরে দিয়েছেন অনেকে। খোদ উর্দিতে থাকা একজন পুলিশকর্মীর এমন প্রকাশ্য মাতলামি আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার শৃঙ্খলাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়।
ভিডিওটি ঊর্ধ্বতন পুলিশকর্তাদের নজরে আসার পরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত হেড কনস্টেবলকে চিহ্নিত করে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইউনিফর্মের মর্যাদা নষ্ট করা বা দায়িত্বে অবহেলার মতো ঘটনা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।




