নিউজ ডেস্ক: চোরবাগান কাণ্ডে আটক আরও এক ঘোষক। অভিযুক্তের নাম কুশল মজুমদার ওরফে কালিয়া। জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন মণ্ডপে মাইকে ঘোষণা করার দায়িত্বে ছিলেন সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু এবং কুশল মজুমদার ওরফে কালিয়া। ফেসবুক লাইভ করে কুশল দাবি করেন, ঘটনার পর ক্লাবের কর্তারা তাঁকে লুকিয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন তিনি।
গতকাল, বৃহস্পতিবারই সঞ্জীব সাহা ওরফে সেন্টুকে গ্রেফতার করেছিল লালবাজার। পুলিশ সূত্রে খবর, সেন্টু ঘটনার দিন মাইকে প্রচার চালাচ্ছিলেন। মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন ধরে নদিয়া থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছে। সঞ্জীবকে লালবাজারে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারপরেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ এবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও একজনের নাম প্রকাশ্যে এসেছে। এবার কালিয়াকে আটক করল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।
সপ্তমীর দিন সকাল থেকেই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছিল। বিকেলের দিকে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও সন্ধ্যায় ফের বৃষ্টি শুরু হয়। সেই বৃষ্টি উপেক্ষা করেই চোরবাগান সর্বজনীনে ভিড় বাড়তে থাকে। সেই সময়েই ঘটে বিপত্তি। 'মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে। আপনারা বেরিয়ে যান...’, মাইকে ঘোষণা হতেই হুড়োহুড়ি শুরু হয় দর্শনার্থীদের। শনিবার সন্ধ্যায় সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ মণ্ডপের বেরোনোর গেটের কাছে এই ঘটনাটি ঘটে। বৃষ্টির মধ্যে পুজো দেখতে আসা দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের জেরে পরিস্থিতি সামাল দিতে সমস্যা তৈরি হয়। ঘটনায় প্রাণ হারান ১৯ জন। অসুস্থ ও আহতদের উদ্ধার করে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী পাঠানো হয়। উদ্ধারকাজে যোগ দেয় দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী-সহ অ্যাম্বুল্যান্স। ঘটনার পর থেকেই চোরবাগান এলাকার পরিস্থিতি এবং পুজো মণ্ডপে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, কোথায় ছিল ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং পদপিষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি ঠিক কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তদন্তকারীরা সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সংগ্রহ করা নমুনা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।




