কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: আনন্দের দিন মর্মান্তিক ঘটনা। চোরবাগানের পদপিষ্টে ঘটনায় বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের আলো মুছে নেমে এল আতঙ্কের অন্ধকার। শনিবার মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় ওই পুজো মণ্ডপে ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান ১৯ জন এবং আহত হয়েছেন একাধিক মানুষ। বন্ধ করে দেওয়া হয় চোরবাগানের মণ্ডপ।মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে কার্যত উঠেছে গাফিলতির অভিযোগ। এত মানুষের মৃত্যুর দায় কার ? কেন ভিড় সামলানো গেল না? কলকাতার দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতাকে দাবি করেছেন। তাঁর দাবি,সপ্তমী সন্ধ্যায় ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে এই দুর্ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি আরও অনেকে আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন বলেও তিনি দাবি করেন। একইসঙ্গে পুলিশের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শতরূপ। তাঁর অভিযোগ, দুর্গাপুজোর মতো জনসমাগমপূর্ণ সময়ে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পুলিশকর্মী মোতায়েন করার পরিবর্তে পুলিশের একটি বড় অংশকে বামপন্থীদের বইয়ের স্টল ভাঙার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
চোরবাগান পুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিপিএম নেতা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, 'লাশের পাহাড় চোর বাগানে, পুলিশ ব্যস্ত আছে সিপিএম-এর বুক স্টল খোলাতে এবং ভাঙাতে, law and order? crowd management ও সব এখন অতীত, গোটা পুজোর প্রস্তুতির সময়ে মুখ্যমন্ত্রী তার মন্ত্রী পারিষদরা ব্যস্ত রইলেন সিপিএমকে বুকস্টল করতে না দেবার হুংকার দিয়ে, দুর্গাপুজা নাকি শারদউৎসব সেই বিতর্ক নিয়ে। কোটি খানেক মানুষ রাস্তায়, নিরাপত্তা কার, দায়িত্ব কার?? আমাদের সহ নাগরিকের মৃত্যু ,উৎসবের মরশুমে লাশের পাহাড়। লজ্জা।
চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্যও। সমাজমাধ্যমের পাতায় তিনি লিখেছেন, ' মাথাটা ছটফট করছে। বুকস্টল ভাঙতে বুলডোজার। যাদবপুরের ছবি দেখছি দূরে বসে। এই দিনও দেখতে হচ্ছে বাংলাকে। বন্ধুরা লড়ে যান। এ লড়াই আমাদের শিকড়কে বাঁচানোর।'
অন্যদিকে বাম আইনজীবী ও সিপিআইএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, 'বিবেকবান বঙ্গবাসী শোক পালন কর। চোরবাগনে পদপিষ্ট, প্যান্ডেলে ভ্রমণকারীদের অপমৃত্যুতে শোকপালন কর। মন্ডপে মন্ডপে ভ্রমণ বন্ধ করে নিজ গৃহে বসে শোকপালন করে নৈতিক দায়বদ্ধতা পালন কর।





