কলকাতা: চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনার পর কলকাতার অন্যান্য বড় পুজোগুলির নিরাপত্তা নিয়ে তৎপর হল রাজ্য প্রশাসন। শহরের জনপ্রিয় পুজো মণ্ডপগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিশেষ পরিদর্শনকারী দল গঠন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কোথাও নিরাপত্তার ঘাটতি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এমনকি পরিস্থিতি অনুযায়ী দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রেখে শুধু পুরোহিতের মাধ্যমে পুজোর আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার নির্দেশও দিতে পারে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, মানুষের জীবনের নিরাপত্তাই সবার আগে।
শনিবার রাতে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। এই বিপর্যয়ের খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। পরে রাতের দিকে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তিনি। এরপরই কলকাতার অন্যান্য জনপ্রিয় পুজো মণ্ডপের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই পরিদর্শনকারী দলে রয়েছেন রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সচিব রাজেশ সিংহ, দমকলের ডিজি অনুজ শর্মা এবং স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের এডিজি জাভেদ শামিম। কলকাতা পুলিশ তাঁদের কাজে সহযোগিতা করবে। পরিদর্শনের পর সংশ্লিষ্ট দল রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষের কাছে রিপোর্ট জমা দেবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিদর্শনকারী দল যে সুপারিশ করবে, পুজো কমিটিগুলিকে তা মেনে চলতে হবে। কোনও মণ্ডপের কাঠামো দুর্বল হলে বা দর্শনার্থীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে বিপদের আশঙ্কা থাকলে সেখানে ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। প্রয়োজন হলে শুধু পুরোহিত দিয়ে পুজো ও সংকল্প সম্পন্ন করতে হবে। দর্শনার্থীদের জন্য মণ্ডপের বাইরে এলইডি স্ক্রিনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যাতে বাইরে থেকেই তাঁরা প্রতিমা ও পুজোর অনুষ্ঠান দেখতে পারেন।
তবে শহরের সমস্ত পুজো বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কলকাতায় বহু পুজোর আয়োজন হয়। কোথাও অপ্রত্যাশিত ভিড় বা নিরাপত্তার ঘাটতি থাকলে তা চিহ্নিত করে দ্রুত সংশোধন করতে হবে। পুজো কমিটিগুলিকেও প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে চোরবাগানের দুর্ঘটনার তদন্তেও একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হবে। কারও কর্তব্যে গাফিলতি প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারপিছু ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং পরিবারের একজনকে গ্রুপ ডি পদে সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে সাহায্য দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহন করার কথাও জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দফতর থেকেও মৃত ও আহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে।
দুর্গাপুজোর বাকি দিনগুলিতে যাতে আর কোনও মণ্ডপে এমন বিপর্যয় না ঘটে, এখন সেটাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। চোরবাগানের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, মণ্ডপের কাঠামো এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় কতটা পরিবর্তন আসে, সেদিকেই নজর থাকবে কলকাতাবাসীর।




