কলকাতা: চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসল রাজ্য প্রশাসন। এবার কলকাতার বড় এবং জনপ্রিয় দুর্গাপুজো মণ্ডপগুলির নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ দল গঠন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনওরকম আপস করা হবে না, স্পষ্ট বার্তা তাঁর। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা, এমনকি পুজোর আয়োজন সীমিত রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
রাত একটা পেরিয়ে চোরবাগানের দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। গোটা এলাকা পরিদর্শন করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, কলকাতার জনপ্রিয় পুজো মণ্ডপগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ দল তৈরি করা হয়েছে। সেই দলে রয়েছেন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি রাজেশ সিনহা, দমকল বিভাগের ডিজি অনুজ শর্মা এবং এসটিএফের এডিজি জাভেদ শামিম। দলটি বিভিন্ন বড় পুজো মণ্ডপ ঘুরে দেখবে এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে রিপোর্ট জমা দেবে।
মুখ্যমন্ত্রী পুজো কমিটিগুলিকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, বিশেষজ্ঞ দল যে সুপারিশ করবে, তা মেনে চলতে হবে। মণ্ডপের কাঠামো, প্রবেশ ও বেরনোর পথ, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, রাজ্যে এবার প্রায় ৫৮ হাজার দুর্গাপুজোর আয়োজন হয়েছে, যা গতবারের তুলনায় প্রায় ১৩ হাজার বেশি। কলকাতার বড় পুজোগুলিতে প্রত্যাশার তুলনায় বেশি ভিড় হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। ফলে কোথাও নিরাপত্তার ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা এসেছে পুজোর আয়োজন নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কোনও মণ্ডপের কাঠামো দুর্বল হলে বা তা পরিবর্তন করতে গিয়ে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকলে, সেখানে ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। প্রয়োজন হলে শুধু পুজোর আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেই থামতে হবে। তাঁর কথায়, “মানুষের জীবন আগে।”
তবে কলকাতার সমস্ত পুজো বন্ধ করে দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্তের কথা তিনি জানাননি। বরং যেসব মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় হচ্ছে বা নিরাপত্তার সমস্যা রয়েছে, সেগুলিকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার কথা বলেছেন। এ ক্ষেত্রে পুলিশ যা নির্দেশ দেবে, পুজো কমিটিগুলিকে তা মেনে চলার আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনার পর এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিশেষ দলের পরিদর্শন এবং তার রিপোর্টের ভিত্তিতে শহরের বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে কী কী পরিবর্তন আনা হয়, এখন সেদিকেই নজর সাধারণ মানুষের।




