কলকাতা: চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজোর বিপর্যয়ের তদন্তে এবার আরও তৎপর কলকাতা পুলিশ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। মণ্ডপের নকশা কেমন ছিল, প্রবেশ ও বেরোনোর পথ কতটা চওড়া ছিল, কীভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ঘটনাস্থলে পৌঁছল বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) এবং ফরেনসিক বিভাগের সদস্যরা। গোটা মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকার থ্রিডি স্ক্যান করা হয়েছে, যাতে পরবর্তী সময়েও ঘটনাস্থলের বিন্যাস খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা যায়।
সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানে ভিড়ের চাপে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এই বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ঘটনায় পুজো কমিটির দুই কর্মকর্তা-সহ মোট সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবার তদন্তকারীদের লক্ষ্য, ঠিক কী পরিস্থিতিতে বিপর্যয় ঘটেছিল এবং কোথায় গাফিলতি ছিল, তা নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা।
কেন করা হল থ্রিডি স্ক্যান?
তদন্তের স্বার্থে দীর্ঘদিন মণ্ডপটি রেখে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই মণ্ডপ ভেঙে ফেলার আগে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ এবং পরিকাঠামোর বিস্তারিত নথিবদ্ধ করার কাজ করছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা।
থ্রিডি স্ক্যানের মাধ্যমে মণ্ডপের বিভিন্ন অংশ, প্রবেশপথ, বেরোনোর রাস্তা এবং আশপাশের জায়গার একটি ডিজিটাল প্রতিরূপ তৈরি করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা করা হবে, ভিড়ের চাপ সামলানোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ছিল কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বেরিয়ে যাওয়ার পথ কতটা কার্যকর ছিল।
সিসিটিভি ফুটেজে কী দেখা যাচ্ছে?
কলকাতা পুলিশের ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার এক আধিকারিকের নেতৃত্বে তদন্ত চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিভিক ভলান্টিয়ার ও ক্লাব সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার ক্রম পুনর্গঠনের চেষ্টা করা হয়েছে।
সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিয়োতেও মণ্ডপের ভিতরে ঠেলাঠেলি ও দর্শনার্থীদের পড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গিয়েছে। যদিও ভিডিয়োগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি, সেগুলিও তদন্তের ক্ষেত্রে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে’ সেই ঘোষণাই কি বাড়িয়েছিল আতঙ্ক?
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিপর্যয়ের সময় মাইকে ঘোষণা করা হয়েছিল, “মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে।” এরপর দর্শনার্থীদের দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। অভিযোগ, এই ঘোষণার পর আতঙ্ক আরও বেড়ে যায় এবং শুরু হয় হুড়োহুড়ি।
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, কে এই ঘোষণা করেছিলেন, কেন তা করা হয়েছিল এবং ঘোষণার ফলে ভিড়ের পরিস্থিতি কীভাবে বদলে যায়। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রকৃত ক্রম বোঝার চেষ্টা চলছে।
দায় কার, উত্তর খুঁজছে তদন্ত
চোরবাগানকাণ্ডে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, মণ্ডপের পরিকাঠামো, জরুরি নির্গমনপথ এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি—সবকিছুই এখন তদন্তের আওতায়। থ্রিডি স্ক্যান ও সংগৃহীত নমুনা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে উঠতে পারে।
এখন দেখার, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা কী তথ্য পান। বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং দায়ীদের চিহ্নিত করাই এখন তদন্তের প্রধান লক্ষ্য।





