কলকাতা: দুর্গাপুজোর আনন্দের শহরে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভিড়ের চাপে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকস্তব্ধ বাংলা। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে টলিউডেও। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় ও মিমি চক্রবর্তীর মতো অভিনেতারা। পাশাপাশি পুজোর মণ্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনার পরেও উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক শিল্পী।
শোকপ্রকাশ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের
চোরবাগানের ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। উৎসবের আনন্দ যে এভাবে বিষাদে পরিণত হবে, তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ও এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি স্বজনহারা পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এবং এই কঠিন সময়ে চিকিৎসকদের উপর নির্ভরতার কথা।
‘অভিশপ্ত দিন’, বললেন স্বস্তিকা
স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে গভীর বেদনা। এমন মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহতদের পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন বলেই জানিয়েছেন তিনি। দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য জানতে এবং প্রয়োজনীয় সাহায্যের জন্য হেল্পলাইন নম্বরও ভাগ করে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীও সমাজমাধ্যমে শোকবার্তা দিয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের সকলের জন্য প্রার্থনা করেছেন তিনি। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে জীবনের অনিশ্চয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।
প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ শিল্পীমহলে
অভিনেত্রী বিদীপ্তা চক্রবর্তী ঘটনার জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বলে সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী প্রশ্ন তুলেছেন, এত বড় দুর্ঘটনার পরেও পুজো মণ্ডপে গানবাজনা কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা যায় না কি না।
তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে নিহতদের মধ্যে সাত বছরের শিশুর মৃত্যুর প্রসঙ্গ, আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পরিস্থিতি এবং শোকাহত পরিবারগুলির যন্ত্রণা। তাঁর মতে, এমন সময়ে সহনাগরিকদের সংবেদনশীল হওয়া জরুরি।
পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, পরিচালক সৌরভ পালোধী নিজের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
চোরবাগানের এই দুর্ঘটনা শুধু একটি পুজো মণ্ডপের বিপর্যয় নয়, বরং উৎসবের সময় জননিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিষেবার প্রস্তুতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন নিহতদের পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করা এবং দায় নির্ধারণের দিকেই নজর রয়েছে।





