নিউজ ডেস্ক: শারদোৎসবের আনন্দে যখন মেতে উঠেছে গোটা রাজ্য, ঠিক তখনই এক চরম মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হলো শহর। চোরবাগান দুর্গা পুজো মণ্ডপে ভয়াবহ পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় উৎসবের আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হয়েছে বিষাদে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে প্রশাসনের ‘চরম ব্যর্থতা’ বলে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। একইসঙ্গে তিনি এই দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ দায়ভার অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটিকে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
গতকালের এই ঘটনার পর থেকেই হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত রয়েছেন তৃণমূলের এই নেতা। সেখানে দাঁড়িয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, এই ধরনের একটি বড় পুজোর আয়োজনে ভিড় নিয়ন্ত্রণের যে পরিকাঠামো থাকা প্রয়োজন ছিল, তার চরম অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।
কুণাল ঘোষ বলেন, "এই দুর্ঘটনা প্রশাসনের সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচায়ক। সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটিকে অবশ্যই এই ঘটনার দায় নিতে হবে।" তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, এই পুজো কমিটির সঙ্গে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন। তবে এই মুহূর্তে কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বিতর্কে না জড়িয়ে আহতদের পাশে দাঁড়ানোই যে তাদের প্রথম কর্তব্য, সে কথা মনে করিয়ে দেন তিনি।
https://x.com/ANI/status/2111672666180735025
তিনি জানান, গতকাল সন্ধ্যা থেকে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো কেবলই ত্রাণ তৎপরতা এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জনের প্রাণহানির খবর সামনে এসেছে, যাদের মৃতদেহ বর্তমানে মেডিকেল কলেজে প্রক্রিয়াকরণের মধ্যে রয়েছে। এই প্রসঙ্গে বিধায়ক কুণাল ঘোষ প্রশাসনের কাছে কয়েকটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও জরুরি দাবি তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, "প্রথমত, মেডিকেল কলেজে থাকা এই ১৯ জনের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত অবিলম্বে সম্পন্ন করতে হবে।" পরিজন হারানোর শোকে যখন পরিবারগুলি দিশেহারা, তখন পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানান, পুলিশকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে শোকাহত পরিবারগুলোকে কোনো ধরনের হয়রানি বা সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়। মৃতদেহ সৎকারের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি যেন অত্যন্ত মসৃণ ও বাধাহীনভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকে বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, পদপিষ্ট হয়ে আহতদের চিকিৎসার বিষয়েও সরকার অত্যন্ত তৎপর বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। মেডিকেল কলেজে প্রাথমিকভাবে ভর্তি হওয়া আহতদের আরও উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কুণাল ঘোষ জানান, চিকিৎসার জন্য এখানে ভর্তি হওয়া প্রত্যেকটি রোগীকে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই অ্যাপোলো বা অন্যান্য উন্নত সুবিধাযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
উৎসবের আলো কীভাবে এমন ভয়াবহ অন্ধকারে পরিণত হলো, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ ও শোকের ছায়া তৈরি হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং প্রভাবশালীরা জড়িত থাকা সত্ত্বেও পুজো কমিটি তাদের গাফিলতির দায় কীভাবে স্বীকার করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।





