কলকাতা: মণ্ডপজুড়ে ২৪টি এসি, মোট শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ১৩৪ টন। তবুও পুজোর ভিড়ে মণ্ডপের ভিতরে তৈরি হয়েছিল দমবন্ধ পরিস্থিতি! চোরবাগানের ভয়াবহ বিপর্যয়ের তদন্তে উঠে আসছে এমনই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে শ্বাসরোধের বিষয়টি সামনে আসার পর মণ্ডপের বায়ু চলাচল ব্যবস্থা এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে এতগুলি এসি থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেল না, এখন সেই উত্তরই খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে মণ্ডপে পৌঁছন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, মণ্ডপের ভিতরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ছিল কি না এবং বিপুল জনসমাগম সামলানোর মতো পরিকাঠামো আদৌ তৈরি করা হয়েছিল কি না।
প্রাথমিক তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন মণ্ডপের ভিতরে মোট ২৪টি এসি চালু ছিল। সব মিলিয়ে সেগুলির ক্ষমতা ছিল ১৩৪ টন। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক অনুমান, মণ্ডপ ফাঁকা থাকলে অথবা দর্শনার্থীর সংখ্যা কম হলে এই ক্ষমতার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যথেষ্ট হতে পারত। কিন্তু পুজোর দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের বিপুল ভিড়ের তুলনায় সেই ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল না বলেই মনে করা হচ্ছে।
তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। এসিগুলি সচল থাকলেও মণ্ডপের বিশাল আয়তন এবং ভিতরে একসঙ্গে প্রচুর মানুষের উপস্থিতির কারণে কাঙ্ক্ষিত ঠান্ডা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছিল না বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। তবে শুধু এসির সংখ্যা বা ক্ষমতা দেখেই মণ্ডপের নিরাপত্তা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, প্রবেশ ও বেরনোর পথ এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিও খতিয়ে দেখা জরুরি।
এই ঘটনার পর পুজোর আগে মণ্ডপ পরিদর্শন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পরিকাঠামো পরীক্ষা করার সময় সম্ভাব্য বিপদের দিকগুলি চিহ্নিত করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে প্রশাসনিক গাফিলতি ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি।
চোরবাগানকাণ্ডের তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশে রাজ্য সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে গঠিত এই দলে প্রশাসন, বিপর্যয় মোকাবিলা এবং পুলিশ বিভাগের আধিকারিকেরা রয়েছেন। তিন মাসের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা।
এখন নজর ফরেন্সিক রিপোর্ট ও সিটের চূড়ান্ত তদন্তের দিকে। এসি ও ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, অতিরিক্ত ভিড় নাকি অন্য কোনও কারণে এই বিপর্যয় তার উত্তর মিললেই স্পষ্ট হবে দুর্ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত চিত্র।




